মাগুরায় আছিয়া হত্যা
লুঙ্গিতে পাওয়া বীর্যের ডিএনএ হিটু শেখের, মৃত্যুদণ্ড বহাল

মাগুরায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণের পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন হাইকোর্ট। পরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের রায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মামলার আসামি হিটু শেখ ভুক্তভোগী শিশুটির বড় বোনের শ্বশুর। শিশুটি বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেলে সেখানে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, হিটু শেখ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে নিজের দায় স্বীকার করেন। তার জবানবন্দি ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন।
রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ঘটনার সময় আসামির পরনে থাকা লুঙ্গিতে বীর্যপাতের আলামত পাওয়া যায়। ডিএনএ পরীক্ষায় ওই আলামত আসামি হিটু শেখের বলে প্রমাণিত হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিম্ন আদালতে আসামিপক্ষে যে আইনজীবী ছিলেন, তিনি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি। সাক্ষীদের আরও দক্ষভাবে জেরা করা হলে আসামিপক্ষ কিছু সুবিধা পেতে পারত এমন মন্তব্যও আদালত করেছেন। তবে এটিকে মামলার রায়ের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
গত বছরের মার্চের শুরুর দিকে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায় শিশুটি। ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়।
এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরে ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।
গত বছরের ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে হিটু শেখ বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন–সংক্রান্ত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে গত ১১ আগস্ট এ মামলার শুনানি শুরু হয়। ২৩ ও ২৪ আগস্টও শুনানি হয়। শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট আদালত আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন। রায়ে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































