তামাক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অসংক্রামক রোগের বোঝা কমানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১১
অ- অ+

দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে। এসব রোগের অন্যতম প্রধান নিয়ামক তামাকের ব্যবহার। তাই দেশে অসংক্রামক রোগের বোঝা কমাতে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ সোমবার বিকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত অসংক্রামক রোগের প্রতিরোধ সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যের ব্যবহার হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য উন্নয়নের অন্যতম প্রধান বাধা তামাক। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অধিকতর সংশোধন ও শক্তিশালী করে ২০২৬ সালে পাস করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) অনুযায়ী তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সেমিনারে বক্তারা জানান, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে মারা যান। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৪৬ জনের মৃত্যু হয় তামাকজনিত রোগে।

তারা বলেন, তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তামাক চাষের কারণে বন উজাড়, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের মতো পরিবেশগত ক্ষতিও বাড়ছে।

সেমিনারে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এ ই-সিগারেট অন্তর্ভুক্ত না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাদের মতে, তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে নতুন প্রজন্মকে লক্ষ্য করে পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করছে।

বক্তারা ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। পাশাপাশি এসব পণ্যের প্রচার ও সহজলভ্যতা বন্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া এবং সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ অনুযায়ী বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের আহ্বান জানান তারা।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহসভাপতি এস এম ড. খলিলুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মেহেদির রং না মুছতেই বিদ্যুতায়িত হয়ে ছেলের মৃত্যু, শোকে প্রাণ গেল বাবারও
পদ্মা সেতুর ঢালে বাস উল্টে আহত ১০
রাতের আঁধারে কাভার্ড ভ্যানে ভারতীয় শাড়ির চালান, ২,৬৮৪ শাড়ি জব্দ করল বিজিবি
মারা গেলেন দক্ষিণ কোরীয় অভিনেতা লি ইয়ং-জু
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা