যুক্তরাষ্ট্রে আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ ২০ জনের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যার পর ২০ জনের বেশি মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুর্গম ওই এলাকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানার পর তাদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন পার্কের রেঞ্জাররা।
রবিবার (৩০ আগস্ট) ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, ২০ জনের বেশি ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন অথবা তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর আনাদোলুর।
শনিবার বিকেলে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম অভ্যন্তরীণ এলাকায় কলোরাডো নদীর তীরে অবস্থিত ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। এলাকাটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হলেও পার্কের অভ্যন্তরের এই অংশ অত্যন্ত দুর্গম।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, শনিবার ওই এলাকায় অবস্থান করা ব্যক্তিদের মধ্যে বিশেষ করে যেসব হাইকারের ক্যাম্পগ্রাউন্ডে থাকার রিজার্ভেশন ছিল কিংবা যারা ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোর দিয়ে চলাচল করছিলেন, তাদের বিষয়ে তথ্য থাকলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
এদিকে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কের কর্মীরা অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, সরিয়ে নেওয়া এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করছেন।
রোববার সকালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্যান্টম র্যাঞ্চ ও লোয়ার নর্থ কাইবাব ট্রেইল থেকে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো আহত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোতে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ট্রেইল অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কলোরাডো নদীর গুরুত্বপূর্ণ উপনদী ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে ওই জলধারা পার হয়ে হাইকারদের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
পরিস্থিতির কারণে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস ফ্যান্টম র্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে।
এ ছাড়া কলোরাডো নদীর ওপর থাকা ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। নদীতে বন্যার পানির সঙ্গে ধাতব কাঠামো ও বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসায় কলোরাডো নদীতে সব ধরনের নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ওই এলাকায় আরও বজ্রঝড় ও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত এবং পাহাড়ি পাথর ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকলেও দুর্গম ভূখণ্ড ও প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
(ঢাকাটাইমস/৩১ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































