সংসদে বিমানমন্ত্রী

তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে লাগবে ৯০২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ২০:০৫| আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ২০:০৯
অ- অ+

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

রবিবার জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

বিমানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নামে একটি ভবন উদ্বোধন করেছিল। তবে এর অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন হয়নি। এখন টার্মিনালটি চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, আগের বকেয়াসহ এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (এডিসি) পাওনা মোট ৯০২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে।

তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের এই সম্পদ ব্যবহার না করে ফেলে রাখলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে। যত দ্রুত এটি চালু করা যাবে, তত দ্রুত ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে। টার্মিনালটি পড়ে থাকলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।

তার ভাষ্য, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরে দ্বিগুণ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। সেখান থেকে অর্জিত আয় দিয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ পরিশোধ করা যাবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফারের (ওআরএটি) প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিমানের ৯ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি খতিয়ে দেখা হবে

বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বিমানের মোট নয়টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়েছে। এসব উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

লাগেজ সরবরাহে সময় কমেছে

চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, যাত্রী হয়রানি রোধে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।

যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে হেল্প ডেস্ক, দ্রুত ব্যাগেজ স্ক্যানিং, ইমিগ্রেশন ও চেক-ইন ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি এবং ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, গত অর্থবছরে ৮৬ দশমিক ০৭ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রথম লাগেজ ১৮ মিনিটের মধ্যে এবং শেষ লাগেজ ৫৮ মিনিটের মধ্যে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

এ ছাড়া অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে যাত্রীসেবা সহজ করা এবং যাত্রী ও কার্গো পরিবহন বাড়িয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা এবং টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনতে ট্রাভেল এজেন্সি আইন ও বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ১০ দফার একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এর আওতায় ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে টিকিটে তাদের নাম, লাইসেন্স নম্বর ও বিক্রয়মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
নড়াইলে ‘মহিলা কলেজ পাড়া’ সড়ক উদ্বোধন 
ঝালকাঠিতে ৩ টন নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ
কথা ছিল চোখের চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরবেন, ফিরলেন লাশ হয়ে
স্ট্রাইকার পজিশনে জেসুসকে বেছে নিয়েছে বার্সেলোনা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা