মামলা ১৬

নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে সাড়ে ২০ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০৬
অ- অ+

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সারা দেশে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ প্রয়োগ, তদারকি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে ১৬টি মামলা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পাঠানো তথ্য থেকে এসব জানা গেছে।

নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগর এলাকায় ওই সময়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, পচা-বাসি খাবার বিক্রি এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি মামলা করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন জেলায়ও নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী অভিযান চালানো হয়েছে। ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড় ও সিলেট জেলায় মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

অনুমোদনহীন রং ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ বা বিক্রি, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং পোড়া তেল ব্যবহারের মতো অপরাধে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় মোট ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ১৩টি মামলা করা হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট পাবনার চাটমোহর ও সদর উপজেলায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। এতে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, পাবনা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিবন্ধন ছাড়াই চিজ উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সারা দেশে খাদ্যস্থাপনা তদারকিও জোরদার করা হয়েছে। ওই এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২৬৪টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি করা হয়।

তদারকির সময় খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা দেখা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। এসব প্রচারের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তাদের করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।

ওই সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ১৪ মিনিট নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪২ বার স্ক্রলবার্তা প্রচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক তিনটি পৃথক বার্তা মোট ৩৫ মিনিট প্রচারিত হয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত বাড়িতে ১০ ঘোড়া জবাই, মাংস নিয়ে পালাল দুর্বৃত্তরা
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সফরের আমন্ত্রণ
ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ানডোয় সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথ চ্যাম্পিয়ন
সাইপ্রাসে উপকূলে ২৭০ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা