সাফারি পার্কের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দর্শনার্থীদের মারধরের অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কে বেড়াতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন একই পরিবারের তিন দর্শনার্থী। তাঁদের অভিযোগ, কোর সাফারির মিনিবাসের আসন অপরিষ্কার থাকা নিয়ে আপত্তি জানানোর পর পার্কের কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পার্ক থেকে বের হওয়ার সময় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় এক নারী ও তাঁর দুই কিশোর ছেলে আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পার্কের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই ঘটনায় তাদের কয়েকজন কর্মচারীও আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন দর্শনার্থী সালমা মোস্তারী (৪৪)। তাঁর সঙ্গে থাকা দুই ছেলে জারিফ (১৫) ও মাহিম (১৭) এ ঘটনায় আহত হন।
অভিযোগে চন্দন কুমার, মাসুদ রানা ও ধনজয় ধনার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সালমা মোস্তারীর অভিযোগ, শনিবার দুপুরে দুই ছেলেকে নিয়ে কোর সাফারি ঘুরতে যান তিনি। নির্ধারিত টিকিট নিয়ে মিনিবাসে ওঠার পর দেখতে পান, গাড়ির কয়েকটি আসনে ময়লা, কাগজ ও পলিথিন পড়ে আছে। বিষয়টি তিনি মিনিবাসের দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারীকে জানান।
এ সময় ওই কর্মচারীর সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয় বলে অভিযোগ করেন সালমা। পরে তাঁর দুই ছেলে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিনিবাসে থাকা আরও কয়েকজন দর্শনার্থীও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন বলে জানান তিনি।
সালমার ভাষ্য, কোর সাফারি শেষে মিনিবাস থেকে নামার সময় কয়েকজন কর্মচারী তাঁদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাঁর দুই ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে পার্কের একটি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁদের মারধর করা হয়। তাঁকেও গালাগাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তাঁদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। একটি ফোন ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাঁদের তিনজনকে কয়েক ঘণ্টা অফিসে রাখা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তাঁরা। চিকিৎসা শেষে রাতে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন সালমা মোস্তারী।
তিনি বলেন, সরকারি একটি বিনোদনকেন্দ্রে পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়ে এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, তা ভাবিনি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।
এ বিষয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন। তখন তিনি পার্কেই ছিলেন। পরে দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার জন্য এক পক্ষকে এককভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না। আমাদের কর্মচারীদেরও ভুল থাকতে পারে। তবে ঘটনার সময় আমাদের কয়েকজন কর্মচারীও আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষও আইনগত পদক্ষেপ নেবে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )শাহিনুর আলম বলেন, দর্শনার্থীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সরকারি এই পর্যটনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের সঙ্গে কর্মচারীদের বিরোধ এবং মারধরের অভিযোগে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, কর্মচারীদের আচরণ এবং পার্কের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে।
(ঢাকাটাইমস/৩০আগস্ট/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































