গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১৩
অ- অ+

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচটি জায়গায় সংশোধন এনে বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে কমিটি।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, কমিশনের তদন্তের সময় কোনো আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনা নজরে এলে এবং ওই ঘটনায় থানায় মামলা হয়ে থাকলে আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করতে পারবে কমিশন। পাশাপাশি যেকোনো ঘটনার তদন্ত করার ক্ষমতাও কমিশনের থাকবে। কমিশনের করা তদন্তের প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিলটিতে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা ইউনিট (এনপিএম) প্রতিষ্ঠার বিধানও রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী প্রটোকলের আলোকে গঠিত এই ইউনিট যেকোনো স্থানে, বিশেষ করে আটককেন্দ্র, হাজতখানা ও সেইফ হোম পরিদর্শন করতে পারবে। এসব পরিদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

খসড়া বিলে এনপিএমের পরিদর্শনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির বিধান ছিল। এ নিয়ে সমালোচনা ওঠার পর সংসদীয় কমিটি বিষয়টিতে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছে।

এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, কমিশন নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন নারী ও একজন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে রাখা বাধ্যতামূলক হবে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত ৩০ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ রহিত করে নতুন আইনি কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ আনা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, নতুন আইনের মাধ্যমে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকারের কাঠামো শক্তিশালী করা হবে।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধনসহ বিলটি আজ সংসদে উপস্থাপনের পর এ নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর বিলটি পাসের জন্য সংসদে বিবেচনায় আসার কথা রয়েছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দিনাজপুরে শঙ্খধ্বনিতে মুখর ঢেপা নদী, নৌযাত্রায় কান্তজিউ বিগ্রহ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ‘অত্যন্ত আশাবাদী’ দীনেশ ত্রিবেদী
নগরকান্দায় পুকুরে বাস, সড়কে উল্টে ট্রাক: আহত ২০
এআই বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে: আইনমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা