সাত শিক্ষার্থীকে বলাৎকার-নির্যাতনের অভিযোগ, মাদ্রাসা বন্ধ

চাঁদপুর প্রতিনিধি
  প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫১
অ- অ+

চাঁদপুর চৌধুরীঘাটে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় সাত শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ওই ভাঙচুরের ঘটনার পর অভিভাবকরা এসে তাদের সন্তানদের বাসায় নিয়ে গেছেন। আর আজ শুক্রবার এলাকাবাসী মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দিয়েছেন।

চাঁদপুর শহরের চৌধুরীঘাট তাজমহল বোর্ডিয়ের পাশে অবস্থিত পৌর মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত কোরআনিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানায় এ ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক খালেককে ঘটনাস্থলে এনে বিচার করতে হবে। তা’ না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দেবেন। একই সঙ্গে তারা সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, শহরের চৌধুরীঘাট এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসাটি নামে এতিম খানা হলেও এটি মূলত শিক্ষার্থীদের অর্থে পরিচালিত হয়। শিশু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসে প্রায় চার হাজার টাকা নেয়া হতো। কিন্তু খাবার দেয়া হত নিম্ন মানের। মাদ্রাসা ও এতিমখানা নাম ব্যবহার করা হলেও প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে ৪ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। অথচ, এখানে এতিম ছাত্র ভর্তি করা হয়নি। মাদ্রাসায় ৫০জন শিক্ষার্থীর জন্য নজরানা ও হেফজখানা মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচেছ। প্রত্যেক মাসে এ মাদ্রাসায় কমপক্ষে দুই লাখ টাকা আয় থাকলেও শিক্ষার্থীদেরকে নিন্মমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একরাম হোসেন তার কমিটিতে সাবেক জজ ও প্রভাবশালীদের নাম প্রচার করে মাদ্রাসা পরিচালনার অর্থ আত্মসাৎ করে যাচেছন বলে অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদ্রাসাটির ভেতরের পরিবেশ খুবই খারাপ। এখানে যে সব শিক্ষার্থী সুস্থ ভর্তি হয়, তারা কয়েক দিনের মাথায় অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাদেরকে কোনো প্রকার চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়নি। আর শিক্ষার্থীদের ওপর একরকম নির্যাতনই চালানো হতো। বেদম পেটানো হতো লেখাপড়া শেখানোর নামে ও অনৈতিক কাজে সায় না দিলে। শিক্ষার্থীরা জখমের চিহ্ন পুলিশ, সংবাদকর্মী ও অভিভাবকে দেখিয়েছে। তাদের শরীর ফেটে ক্ষত হয়ে রয়েছে।

ছাত্ররা জানায়, তাদের শিক্ষক আব্দুল খালেক তার ইচ্ছামত ছাত্রদেরকে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করতেন। কেই প্রতিবাদ করলে তার ওপরে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যেত।

গত বুধবার মাদ্রাসার এক ছাত্রকে ডেকে নিয়ে রাতে তার মশারির ভেতরে ঢুকতে বলেন ওই শিক্ষক। সে প্রবেশ করার পর প্রথমে তাকে দিয়ে শরীরে ওষুধ মালিশ করান। এক পর্যায়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মুখ চেপে ধরে বলাৎকার করে রক্তাক্ত করে ফেলেন। পরে সকালে ছাত্র শেখ মোহাম্মদ ঘটনাটি মাদ্রাসার অন্য ছাত্রদের ও তার অভিভাবককে ফোন করে জানায়। এ নিয়ে সাত ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এর পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আরেক ছাত্র বলাৎকারে রাজি না হওয়ায় তাকে শিক্ষক আব্দুল খালেক বেদম পিটিয়ে আহত করেন। এর পরই দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় ভাঙচুর করে বিক্ষোভ দেখায়।

যৌন নির্যাতনের শিকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এ প্রতিবেদকের কাছে তাদের দাবি জানায়, তাদের ভাষায়, ‘আব্দুল খালেক অনেক খারাপ হুজুর। আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছে। ওই খারাপ হুজুরকে ধরে এনে পেটান।’

নির্যাতন ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মো. ইকরাম বলেন, চৌধুরী ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী শামীম ঢালী আমার কাছে মাদ্রাসার পাশের ছাদটিতে রুম করার জন্য চায়। আমি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনার সৃষ্টি করেছে মাদ্রাসাটি ধ্বংস করার জন্য। তার সাথে রয়েছে মার্কেটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী শিকদার ও তার সঙ্গীরা।

এ ব্যপারে ব্যবসায়ী শামীম ঢালীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অধ্যক্ষের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছাদ চাওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। দীর্ঘদিন যাবত এ মাদ্রাসায় অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমরা ইসলামি প্রতিষ্ঠন মনে করে সমাধান করে দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, ‘তাকে মাদ্রাসার স্বার্থে বলেছি, অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসায় এনে একটা সমাধান করতে। চৌধুরী ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী সোহেল হোসেন, দীপু মিয়া, সৈয়দ আহাম্মদসহ অন্যরা বলছেন, এ মাদ্রাসায় দীর্যদিন ধরে নির্যাতন চলে আসছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে এনে বিচার করতে হবে।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল খালেক মুঠো ফোনে বলেন, এলাকার ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমার সাথে কোনো শিক্ষার্থীর এ ধরনের (বলাৎকার) ঘটনা ঘটেনি।

চাঁদপুর মডেল থানার এএসআই মো. আবু হানিফ ঘটনাস্থলে জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেছে। এখানে আমাদের পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. নাছিম উদ্দিন বলেন, ঘটনা অবগত হয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নির্যাতিতরা অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকাটাইমস/০৪অক্টোবর/ইএস

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near ') ORDER BY entry_time DESC,id DESC LIMIT 4' at line 4