যশোরে সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

যশোরের নিজের শিশু কন্যা সন্তানকে হত্যার পর জুলেখা খাতুন (২৪) নামে এক গর্ভবতী নারী আত্মহত্যা করেছেন। নিহত জুলেখার পেটে সাত মাস বয়সের সন্তান ছিল। রবিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামে এই হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে।
নিহত জুলেখা শিকারপুর গ্রামের আল মামুনের স্ত্রী।
নিহত জুলেখার চাচা তরিকুল ইসলাম জানান, ছয়-সাত মাস আগে শার্শা লক্ষণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আলাউদ্দিন গ্যাদনের মেয়ে জুলি বেগমের (২২) একটি স্বর্ণের হার চুরি হয়ে যায়। শনিবার সকাল ১০টার দিকে নিহত জুলেখার কন্যা আমেনা (৪) চকলেট কিনতে আলাউদ্দিন গ্যাদনের দোকানে যায়। এ সময় গ্যাদনের মেয়ে জুলি বেগম আমেনার গলা থেকে তারই চুরি হওয়া স্বর্ণের হার ভেবে জোর করে খুলে নেয়। এই ঘটনার জের ধরে হারানো স্বর্ণের চেইনের মালিক জুলি শিকারপুর গ্রামের আল মামুনের বাসায় প্রমাণের জন্য গেলে মামুনের স্ত্রী জুলেখা খাতুনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।
সেই সময় জুলি বেগমকে উদ্দেশ করে জুলেখা খাতুন বলেন, এটি আমার মায়ের উপহার দেয়া হার। আমার মা এই স্বর্ণের হার আমাকে বানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার মা ঢাকায় চাকরি করে বিধায় শুক্রবার ছাড়া এলাকায় আসতে পারবে না বলে মোবাইল ফোনে তৎক্ষণাৎ জানিয়েছেন। প্রমাণ যথাযথ মনে না হওয়ায় স্বর্ণের চেইন খোয়া যাওয়া অভিযুক্ত জুলি বেগম তার বাসায় ফিরে যান।
নিহত জুলি খাতুনের মামাতো ননদ একই গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে সীমা খাতুন জানান, রবিবার সকালে ৮টার দিকে তার ভাবীকে অনেক ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না দেয়ায় সন্দেহ হয়। তখন জানালায় উঁকি দিয়ে দেখেন তার ভাবী বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলছেন। তখন তার চিৎকারে আশপাশের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে। মায়ের পাশেই পড়ে থাকে মেয়ে আমেনার লাশ।
নাভারন সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুলি বেগম ও তার মাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/২ফেব্রুয়ারি/কেএম/এলএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































