‘সগিরা মোর্শেদ হত্যায় পিবিআইয়ের তদন্ত বানোয়াট’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ১৩ মার্চ ২০২০, ১৮:৩২
অ- অ+

চাঞ্চল্যকর সগিরা মোর্শেদ হত্যার প্রায় ৩০ বছর পর ভাসুরসহ চারজনের বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের দেওয়া চার্জশিট মিথ্যা, মনগড়া ও বানোয়াট বলে দাবি বিবাদীর পরিবারের। তারা পিবিআইয়ের চার্জশিটের বেশকিছু বক্তব্যও খণ্ডন করে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের তদন্ত ও চার্জশিটের ‘নানা অসঙ্গতি’ তুলে ধরেন সগিরার ভাসুর হাসান আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহিনের দুই ছেলে চৌধুরী দিরাবিজ মাহমুদ ও চৌধুরী মাহির আনসার। তাদের দাবি, ৩০ বছর আগের একটি ঘটনায় তার নির্দোষ বাবা-মা ও মামাকে ফাঁসাতেই মামলাটি মিথ্যাভাবে সাজানো হয়েছে।

এদিকে সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় ভাসুর হাসান আলী ও জা শাহিন ছাড়াও হাসান আলীর শ্যালক আনাস মাহমুদ রেজওয়ান এবং ভাড়াটে খুনি মারুফ রেজা জেলহাজতে আছেন। এবছরের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এক হাজার ৩০৯ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম। মামলায় আসামি করা হয়েছে চারজনকে।

৯ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ পিবিআইয়ের দেয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৫ মার্চ।

চার্জশিটে পিবিআইয়ের উল্লেখ করা অভিযোগের জবাব দিয়ে চৌধুরী দিরাবিজ মাহমুদ ও চৌধুরী মাহির আনসার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৩০ বছর আগের একটি ঘটনায় তার নির্দোষ বাবা-মা ও মামাকে ফাঁসাতেই মামলাটি মিথ্যাভাবে সাজানো হয়েছে।

তারা বলেন, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই আমার ছোট চাচি সগিরা মোর্শেদ আমাদের চাচাতো বোন সারাহাত সালমা চৌধুরীকে স্কুল থেকে আনার পথে ছিনতাইকারীদের গুলিতে মারা যান। ওই ঘটনা অনেক নাড়া দিয়েছিল সবাইকে। কিন্তু সে ঘটনায় দায়ের করা মামলা ১৯৯১ সালে হাইকোর্টে স্থগিত হয়ে যায়, যা গত বছরের জুনে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ নভেম্বর বাবা-মা এবং বড় মামা মারুফ রেজাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয় এবং গত ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পিবিআই।

চার্জশিটের অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরে তারা আরও বলেন, তৃতীয় তলা থেকে ময়লা কীভাবে দ্বিতীয় তলায় যায়? ময়লা তো নিচতলায় পড়ার কথা। নিচতলায় থাকতেন বড় চাচি। তিনি কখনো ময়লা ফেলা নিয়ে আপত্তি জানাননি। দ্বিতীয়ত; শাশুড়ি কর্তৃক সগিরা মোর্শেদকে অধিকতর পছন্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। আমাদের দাদি নিচতলায় বড় চাচার বাসায় থাকতেন বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে। ছোট চাচা-চাচি তো বিয়ের পর চাকরি ছেড়ে দিয়ে পাঁচ বছর বাইরেই ছিলেন। আসার পর ১-২ বছরের দাদিকে পেয়েছিলেন। দাদি বেঁচে থাকার সময় তো ছোট চাচি চাকরি করেননি, তাহলে হিংসা কীভাবে হয়? তৃতীয়ত; শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ইগো সৃষ্টির অভিযোগটিও ভুয়া। কারণ ছোট চাচি মাস্টার্স পাস, আমাদের আম্মা অনার্স পাস ও বড় চাচি এসএসসি পাস।

১৯৮০ সালে আব্বা ও আম্মার বিয়ের আগে আমাদের ছোট চাচা ও ছোট চাচির বিয়ে হয় এবং ছোট চাচা ১৯৮০ সালে ইরাকে যাওয়ার পর ছোট চাচি কোনো চাকরি করেননি ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত। তিন জাঁ যদি গৃহিনী হয়ে থাকেন, তাহলে ইগো কীভাবে আসে? চতুর্থত; আব্বা বাসার পেছনে বাড়ির কাজ শুরু করেন ১৯৮৮ সালের এপ্রিল মাসে। ছোট চাচি মারা যাওয়ার সময় ২-৩ তলা হয়েছিল। ছোট চাচা বাড়ির কাজ শুরু করেন ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। দুইটা নির্মাণাধীন বাসা দেখে কীভাবে কার হিংসা হয়? পঞ্চমত; বড় ও ছোট চাচি আম্মার থেকে বয়সে তিন বছরের বড়। তাই উভয়ে উভয়কেই তুমি করে ডাকতেন। তুমি বলে সম্মোধন নিয়ে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যের অভিযোগও মিথ্যে। আর শুধু তৃতীয় তলার ছাদ ব্যবহার নিয়ে মনোমালিন্যে কেউ কাউকে হত্যা করতে পারে সেটাও বিশ্বাসযোগ্য নয়। সপ্তমত; কাজের মেয়ে জাহানুরকে মারধর ও ‘তোমাকে দেখে নিব বলে হুমকি’র বিষয়টি পুরো সত্য নয়। কাজের মেয়ে জাহানুরকে নিয়েই যদি ঘটনার সূত্রপাত হয়, তাহলে সেই কাজের মেয়ের কোনো বক্তব্য পিবিআই নেয়নি কেন?

এছাড়া চার্জশিটে লেখা, ঘটনার দিন দুপুর ২টায় আব্বা ফোন দিয়ে মামা আনাসকে বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে মৌচাকে থাকতে বলেন। আর বাদী আনুমানিক বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে ছোট চাচিকে বলেন যে, ‘আমি যাবো না, তুমি যাও’ এবং রিকশাতে ওঠার কিছুক্ষণ পরে ছোট চাচি বলেন, মৌচাক দিয়ে স্কুলে যেতে। তাহলে আব্বা দুপুর ২টার সময় কীভাবে জানলেন যে ছোট চাচি না চাচা স্কুলে যাচ্ছেন? আর মামা ওই বছরের শুরু থেকে এইচসিএল কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং জুন-জুলাই মাসে প্রজেক্টের কাজে রংপুরে পোস্টিং ছিল তার।

দিরাবিজ মাহমুদ ও মাহির আনসার বলেন, একটি চিরকুটের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। কিন্তু সেটি কোথায়? ৩০ বছর আগে আদালতের জবানবন্দিতে ছোট চাচা বলতে পারেননি, কোনো জিডিও করেননি। আম্মার ৪০ বছর আগের চিঠি সযত্নে রাখতে পারলে চিরকুট কেন পারেননি? বাদী যদি পরিবারের কথা শুনে তখন কেস নিয়ে না এগিয়ে থাকেন এবং ৩০ বছর যাবত সত্য গোপন রাখেন, তাহলে আসল খুনি কে?

দিরাবিজ মাহমুদ ও মাহির আনসার বলেন, বিভিন্ন কারণে আমাদের ও আত্মীয়দের মনে সন্দেহের উদ্রেক তৈরি হওয়ায় আমাদের মনে হচ্ছে যে, আসল খুনি অন্য কেউ। সেটা বাদী, নাকি তার শ্বশুর বাড়ির কেউ, নাকি অন্য কেউ সেটা বের করার জন্য সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন, ঘটনাটি পুনরায় সুষ্ঠভাবে তদন্ত করে আসল খুনি বের করা হোক।

মাহির আনসার বলেন, ৩০ বছর আগে রিকশাওয়ালা আসামি মন্টুকে চিনতে পারেনি, শুধু গোঁফ থাকার কারণে। সেই একই রিকশাওয়ালা পিবিআই’র স্কেচ করা মারুফ রেজার ছবি দেখে এক বাক্যে চতুর্থ আসামিকে চিনে ফেললো, ১৯৮৯ সালে যার বয়স ছিল ১৮ বছর। এটা কোনোভাবে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। তাছাড়া পিবিআই শুধু বড় চাচা ও বড় চাচির বাসায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আসে। ছোট চাচার শ্বশুর বাড়ি, বড় চাচা-চাচি এবং বড় চাচার শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে কেন পিবিআই অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি? যেখানে আমাদের ৮৪ বছর বয়সী নানুকেও পিবিআই অফিসে যেতে চিঠি দেয়া হয়েছিল।

(ঢাকাটাইমস/১৩মার্চ/এসএস/জেবি)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই, পুলিশও ছাড় পাবে না: খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি
বাবার দাফন শেষে রাতে চাকরি, সকালে পরীক্ষা; সেই ইকনের পড়াশোনার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী
আতিফ আসলামের কনসার্টের ভেন্যু পরিবর্তন
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তাকে বদলি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা