মহাসড়কে দুর্ঘটনায় জরুরি সেবা: চালু হচ্ছে ২৪ ট্রমা সেন্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪
অ- অ+

দেশের মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কেন্দ্র আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ হিসেবে চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে ২৪টি কেন্দ্রেই চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।

গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব ট্রমা সেন্টার চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ করার সিদ্ধান্ত হয়।

এ ছাড়া সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে এসব ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে প্রাণহানি কমানো।

তবে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে বছরের পর বছর ধরে অধিকাংশ কেন্দ্র অব্যবহৃত পড়ে আছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। একটি আবার সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ট্রমা সেন্টারগুলোর মূল পরিকল্পনায় প্রতিটিতে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল।

এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন নার্স, ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান থাকার কথা। তবে কোনো কেন্দ্রেই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এসব কেন্দ্র বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিনতলা ভবনে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।

দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে এসব ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবল।

সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার এর একটি উদাহরণ। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালে এটি নির্মাণ করা হয়।

প্রায় ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর চলতি বছরের কোরবানির ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের সেবা দিতে ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরে আবার সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটিকে নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

(ঢাকাটাইমস/২১ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
২০তম এশিয়ান গেমস শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতি যোদ্ধাদের তীব্র সংঘর্ষ, নিহত ৮০
কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নতুন কমিটি, সভাপতি ফুহাদ সম্পাদক জনি
দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসেই বদলি বাগেরহাট-চুয়াডাঙ্গার এসপি, নতুন দায়িত্বে জামিরুল-মেহেদী