এ এক অচেনা ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২০, ২০:৫৪ | প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২০, ২০:১৮

বিশ্বের মেগা সিটিগুলোর একটি ঢাকা। এই শহরের যানজটের কথা সবার জানা। তবে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে একদম বদলে গেছে প্রায় দুই কোটি মানুষের এই শহর। কারণ যানজট তো দূরে থাক ঢাকার রাজপথে ব্যক্তিগত গাড়িও চোখে পড়ছে কালেভাদ্রে।

ঈদসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ও ঢাকা ফাঁকা হয়েছে। তবে এতটা ফাঁকা এর আগে দেখেছে বলে মনে করতে পারছে না কেউ। চিরচেনা ঢাকার বর্তমান চিত্রটা আগের কোনো চিত্রের সঙ্গেই মিল নেই।

গত কয়েক দিন ধরেই ঢাকার চিত্র এটি। তবে বৃহস্পতিবার থেকে টানা ১০ দিনের সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ায় পুরোপুরি নিষ্প্রাণ রাজধানী ঢাকা। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। কেউ যাতে বের না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আছেন সদা তৎপর। তাদের সহযোগিতায় ঢাকাসহ দেশজুড়ে মোতায়েন আছেন সেনা সদস্যরাও।

গত ২৪ মার্চ সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক ভিডিও বার্তায় ২৬ মার্চ থেকে সবধরনের গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেন। সরকারের এমন ঘোষণার পর আজ সকাল থেকে কোনো ধরনের গণপরিবহন চলছে না রাজধানীতে। নগরীর সড়কগুলোও জনমানবশূন্য অবস্থায় রয়েছে।

সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ফুলবাড়িয়া, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এসব টার্মিনালের শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ এরই মধ্যে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। যারা ঢাকায় রয়েছেন তারা টার্মিনালগুলোতে রান্না করে খাচ্ছেন।

সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস-মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সকাল থেকে একটি বাসও ছাড়া হচ্ছে না। রাস্তাঘাটে কোনো লোকজন নেই। এমন পরিবেশ আর কখনো হয়নি। আমাদের টার্মিনালের শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছে। এখন আমি তাদের রান্না করার ব্যবস্থা করছি।’

নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক আলমগীর কবির ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত মঙ্গলবার থেকে দেশের সব রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই সদরঘাট থেকে ছাড়ছে না কোনো লঞ্চ। টার্মিনালেও জনশূন্যতা বিরাজ করছে। আমরা কোনো লঞ্চ চলতে দিচ্ছি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকরাও অনেক সচেতন রয়েছে।’

একই অবস্থা রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনেও। বন্ধ আছে সব ধরনের রেল চলাচল। স্টেশনে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। এত অচেনা কমলাপুর আগে কখনও দেখেনি বলে জানান এখানকার শ্রমিকর।

এদিকে করোনা পরিস্থিতে ওষুধ ও নিত্যপণ্যের কিছু দোকানপাট ছাড়া সব দোকান বন্ধ রয়েছে ঢাকায়। গ্রাহক না থাকায় হোটেলও বন্ধ। সব মিলিয়ে পুরোপুরি অচেনা এক রূপ বিরাজ করছে ঢাকায়। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তাও অনিশ্চিত।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও পাঁচজন। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪। মারা গেছে পাঁচজন। আর সুস্থ হয়েছেন ১১ জন।

(ঢাকাটাইমস/২৬মার্চ/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত