গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা, খনন হচ্ছে ১৫০টি কূপ: মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৮
অ- অ+

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা জানি দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থাকার কারণে বাংলাদেশের একটি নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে একটি অনেক দিন ধরে কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল ছিল।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার কেবল সেটি মেরামতই করছে না, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে বর্তমানে সচল দুটি, এর পাশাপাশি ২০২৮ সালের আগে সম্ভব হলে তৃতীয়টি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পাঁচটি এফএসআরইউতে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যাতে গ্যাস সংকটের টেকসই সমাধান আনতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে সরকার।

তিনি আরও জানান, মধ্যমেয়াদে দেশের ভেতরে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন হচ্ছে। এই ধাপ সফলভাবে শেষ হলে আরও ১৫০টি কূপ খননের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে। শুধু এফএসআরইউ-এর ওপর নির্ভরশীল না থেকে, দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে ল্যান্ড-বেসড বা স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা যায় এবং জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক আরও সুদৃঢ় করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১টি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন ও অ্যাপেক্স বডির শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের একাংশ অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তেল, গ্যাস ও কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে একটি টেকসই সমন্বয় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সত্যিকার অর্থেই স্বনির্ভর হতে পারে। তবে আমাদের ভবিষ্যৎ জ্বালানির সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে সৌরবিদ্যুৎ বা নবায়নযোগ্য শক্তি। আমরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে যেমন বহুমুখী করব, তেমনি সোলার এনার্জিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত মজবুত করব।

তিনি উল্লেখ করেন, আজকের বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তাঁদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। আমাদের উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিরা নিজেদের মেধা, ত্যাগ ও শ্রম দিয়ে দেশের শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন, সরকার নীতিগত পূর্ণ সহায়তা দেবে এবং বেসরকারি খাত সেই নীতির কার্যকর প্রয়োগ করবে। সরকারি ও বেসরকারি খাত একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা জানি, এই গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পেছনে ১৬ বছরের একটি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন ছিল; যার ফলে বহু সংকট পুঞ্জীভূত হয়ে পাহাড়সম রূপ নিয়েছে।

হয়তো রাতারাতি, এক মাসে কিংবা এক বছরে সেই সব সংকটের সমাধান করা দুরূহ। তবে এই সরকারের শতভাগ সদিচ্ছা, গভীর আন্তরিকতা এবং সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যার বাস্তব চিত্র আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হয়েছে।

আলোচনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ তাঁদের চলমান সংকট ও চ্যালেঞ্জের কথা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরেছেন। সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, প্রতিটি সংকটই আসলে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ও তাঁদের সংগঠনগুলোর সাথে সরকারের এই অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করতে এবং যৌথ সংলাপের এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা নিয়মিত এমন মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে একটি সত্যিকার অর্থে স্বনির্ভর, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও সার্বভৌমিক শক্তিতে বলীয়ান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যানসহ গণমাধ্যম ও টকশো ব্যক্তিত্বরা।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।

ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে ছিলেন, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকার প্রেসিডেন্ট কামরান টি. রহমান, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ডিরেক্টর শামস জামান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রাজিব এইচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানি কারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম, ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া শহীদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আবদুল মুক্তাদির, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসর্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহবুব আনাম, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শামীম আহমেদ, বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ময়নুল ইসলাম, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন, বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এম শাহাদাত হোসেন সোহেল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলী আফজাল।

এছাড়া দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শেরপুরে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু
শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি
ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অংশ বানাবে জামায়াত-শিবির: রাশেদ খাঁন
ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের কার্যালয় বার্ষিক পরিদর্শন করলেন রেঞ্জ ডিআইজি