শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ভোটের মাঠে থাকবো: সালাহউদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৬

বিএনপির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ। সংসদ সদস্য ছিলেন তিনবার। ১৭ অক্টোবর ঢাকা-৫ আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তিনি। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা টাইমসকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে ঢাকার এই সংসদীয় আসনে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা বলেছেন এই সাবেক সাংসদ। সাক্ষাতকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বোরহান উদ্দিন।

প্রশ্ন: ভোটের প্রচারে কতটা সমান সুযোগ পাচ্ছেন বলে মনে করেন?

সালাহউদ্দিন: নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে একাধিকবার হামলা ও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। ভোটের দিন তারিখ ঠিক হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু তার সমর্থক শান্তা নূর, হারুণ অর রশিদ মুন্না ত্রাস চালাচ্ছে। ভয় দেখিয়ে জনগণ যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে না যায় সে চেষ্টায় লিপ্ত তারা। জনগণ তাদেরকে চিনে না।

গত কয়েকদিন তিনি বলেছেন, আমি নাকি এই এলকার সন্তান নই। বরং মনুই এ এলাকার সন্তান না। তার এলাকা মীর হাজীরবাগে, তিনি থাকেন গেন্ডারিয়াতে। আমি তিনবার ঢাকা-৫ আসনে সংসদ সদস্য ছিলাম। আমি এই এলাকার সন্তান। এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আমরা মা, মাটির সম্পর্ক।

প্রশ্ন: প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর প্রতি আপনার কি আহ্বান থাকবে?

সালাহউদ্দিন: আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বলবো আমার সম্পর্কে না জেনে কোনো মন্তব্য করা ঠিক না। আর ভোট তো জনগণের অধিকার জনগণের ওপর ছেড়ে দিন। যার ভোট সে যেন দিতে পারেন সেজন্য সহযোগিতা করুন। আসুন, আমরা সকলে মিলে সেই চেষ্টা করি।

প্রশ্ন: আবার কেন জনগণ আপনাকে বেছে নেবে বলে মনে করেন?

সালাহউদ্দিন: ১৯৯১ থেকে ২০০১ এবং ২০০৮ পর্যন্ত জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমি স্কুল, কলেজ, কালভার্ড, ব্রিজ, নির্মাণে সাড়ে তিনশ কোটি টাকার প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিলাম। এই কাজগুলো আমার আমলেই শেষ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে ওই এলাকার তেমন কোনো উন্নয়ন করেনি। মা-শিশু হাসপাতাল এটা ২০১৯ সালে প্রথমে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ছিল। ২০০১ সালে এই হাসপাতালকে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট করি। ওখানে ১০ একর জায়গাও কেনা হয়। একটি জেনারেল হাসপাতাল কারার জন্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ ১৫ বছরেও এই কাজটি সম্পন্ন করেনি।

এছাড়া এই এলাকায় কোনো কলেজ ছিল না। একটি কুঁড়েঘর ছিল এই কলেজের। আমি দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। এমন আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যা আমার হাতে করা। এই এলাকায় ১২টি কলেজ করেছি। ৩০টির উপরে হাইস্কুল করেছি। যেগুলো প্রতিটি চার তলা ভবনে রূপান্তরিত। ৫০টির মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় সবকয়টি চার তলা ভবন করা হয়। ১২টির মত মাদ্রাসা করছি। মাতুয়াইলের সবচেয়ে বড় মসজিদসহ এই এলাকায় এমন কোনো মসজিদ নেই যেখানে আমার অবদান নেই। আমার আরো অনেক পরিকল্পনা ছিল। এবার নির্বাচিত হলে সেগুলো সম্পন্ন করবো।

প্রশ্ন: এবছর জনগণের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

সালাহউদ্দিন: জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন। যেহেতু আমি এই এলাকার সন্তান। এই মাটির সন্তান আমি। তিনবার জনগণের ভোটে নিবার্চিত হয়েছে। তাদের সেবক হিসেবে কাজ করেছি। তাই তারা আমার পাশে আছেন।

প্রশ্ন: গত নির্বাচনে কেন এই এলাকায় নির্বাচন করেননি?

সালাহউদ্দিন: গত নির্বাচনে এই ঢাকা-৪ দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। আমি কিন্তু ওই আসনে মনোনয়ন দাখিল করিনি। আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম ঢাকা-৫ আসনে। কিন্ত দল থেকে আমাকে ঢাকা-৪ আসনে দেয়া হয়েছে। আমি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন করেছি। দলীয় সিদ্ধান্তই আমাকে চার আসনে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি মূল ভোটার ঢাকা-৫ আসনে। আসলে বলতে গেলে আমি কিন্তু সব সময় জনগণের পাশে ছিলাম, ঢাকা-৫ জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেছি। তারাই কিন্ত ভালোবাসা, স্নেহ, দোয়া করেন। এটা এলাকার মানুষই বলবে। মনু কিন্তু এই এলকার সন্তান নয়। আর এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নাড়ির বন্ধন। এলাকার সব বয়সী মানুষই আমাকে ভালোবাসেন।

প্রশ্ন: এলাকার উন্নয়ন নিয়ে এবার আপনার পরিকল্পনা কি?

সালাহউদ্দিন: এই এলাকায় সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এটা নিয়ে কাজ করবো। এলাকার বেকার যুবক, তাদেরকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভোকেশনাল টেনিং, কম্পিউটার টেনিং, এস আহমেদ ফাউন্ডেশন থেকে নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করাই হচ্ছে আমার লক্ষ্য, যা বিগত দিনে শুরু করে ছিলাম। বয়স্ক ভাতা বিধবা ভাতা চালু করবো। এই এলাকার মেধাবী ছাত্রদেরকে বিভিন্ন স্কলারশিপের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করে আসছি প্রথম থেকেই। এবার আমার প্রথম কাজ হবে সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ে তোলা। যারা শিক্ষিত বেকার যুব আছেন তাদের জন্য আলাদা স্কিম তৈরি করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

প্রশ্ন : সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

সালাহউদ্দিন: বর্তমান সরকার তো আজ পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন করেনি। মানুষের ভোটের অধিকার হরন করছে। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন তারা চায় না। তারা সন্ত্রাসীয় কায়দায় রাতের অন্ধকারে ভোট ছিনতাই করে নির্বাচন করেছে। এবার ইভিএমে নির্বাচন। তারপরও কারচুপি করার চেষ্টার লিপ্ত আছে। আমরা চেষ্টা করবো এটাকে প্রতিহত করার জন্য। এবং জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো। আমরা জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করছি। আপনারা কেন্দ্রে আসুন।

প্রশ্ন: নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকবেন কি-না?

সালাহউদ্দিন: আমি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ঢাকা-৫ আসনে জনগণের একজন সেবক হিসেবে এই নির্বাচনে মাঠে থাকবো। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে সহযোগিতার জন্য আমাদের কর্মীদেরকে নির্দেশ দিয়েছি। তারা প্রতিটি কেন্দ্র অবস্থান করবে। কেন্দ্রের আশপাশে থাকবে। যাতে ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে ভোটাররা যাতে ধানের শীষে ভোট দিতে পারেন।

সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সালাহউদ্দিন: আপানাকেও ধন্যবাদ

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :