অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৬
অ- অ+

ভূয়া মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান ভিসা প্রদানের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪)।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের পাইকপাড়ায় র‍্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. তারেকুল ইসলাম (৪৫), মো. মাইনুদ্দিন ভূইয়া (৪৮), মো. নেওয়াজ (৪৫) এবং আবু হাসান (৪৮)। র‍্যাব জানায়, তাদের মধ্যে তারেকুল ইসলাম চক্রটির মূল হোতা।

ভূয়া অ্যাপসে ভিসা যাচাইয়ের ফাঁদ

র‍্যাব জানায়, অস্ট্রেলিয়ান ভিসা প্রক্রিয়ায় ভিসা অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য ও নথিপত্র নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করে ‘টিআই ট্রেডিং কর্পোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি ভূয়া অ্যাপস ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ভিসা সংক্রান্ত জাল কাগজপত্র দেখাত। এতে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে— এমন বিশ্বাস তৈরি করে প্রতিজনের কাছ থেকে গড়ে ২১ লাখ টাকা করে আদায় করা হতো।

ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত তারিখে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গেলে জানতে পারেন, তাদের ভিসা ও টিকিট উভয়ই জাল। পরে বাংলাদেশে অবস্থিত Australian High Commission in Bangladesh-এ যোগাযোগ করে তারা নিশ্চিত হন যে, তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

৯৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মো. শরীফ মোল্লা (২৮) তার ভাতিজা ওমর ফারুক, চাচাতো ভাই আবুল কালাম এবং ভাগিনা সাজ্জাদ হোসেনকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের ১২ মে এবং পরবর্তী সময়ে আসামি তারেকুল ইসলামের পল্লবী থানাধীন বাসা ও অফিসে গিয়ে ‘এশিয়া ব্যাংক টিআর গ্রুপ’ নামের একটি হিসাবে মোট ৯৪ লাখ টাকা জমা দেন। এ সময় তাদের পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নেওয়া হয়।

পরে আসামিরা ভিসা ও টিকিট সরবরাহ করলেও সেগুলো জাল প্রমাণিত হয়। টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীতে অভিযান

এ ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের পর র‍্যাব-৪ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। সোমবার (২ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল মাহবুব আলম বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এনআই অ্যাক্টসহ একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতারকরা একটি অফিসে কার্যক্রম চালিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর সেটি বন্ধ করে নতুন স্থানে গিয়ে একই কৌশলে আবার প্রতারণা শুরু করত।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব-৪।

(ঢাকাটাইমস/৩ মার্চ/এলএম)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী সৌদি আরব
পদোন্নতি পেয়ে সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা
নৌবহরে যুক্ত হয়েছে জাপানী ৫টি পেট্রোল বোট
ডিবি মিরপুর বিভাগের ডিসি হলেন রাঁকিব খান
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা