অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি বেলজিয়াম। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দলটি। রুদ্ধশ্বাস এই জয়ের পর বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া বলেছেন, “বিশ্বাস থাকলে ফুটবলে সবকিছুই সম্ভব।”
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় সেনেগাল। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ৫১ মিনিটের মধ্যেই ২-০ গোলের লিড নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ৩৮তম মিনিটে হাবিব দিয়ারা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সারর। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত স্বস্তিতেই ছিল সেনেগাল এবং শেষ ষোলোর টিকিটও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তাদের।
কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৮৬তম মিনিটে টমাস মুনিয়েরের ক্রস থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ফেরান রোমেলু লুকাকু। এরপর ৮৯তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রসে হেডে গোল করে সমতা ফেরান অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্স। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে ২-২ সমতায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে তোলে লড়াই। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ১২৪তম মিনিটে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন টিলেমান্স। ভিএআরের সহায়তায় ঘটনাটি পর্যালোচনা করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ১২৫তম মিনিটে স্পটকিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন টিলেমান্স। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানই জয় এনে দেয় বেলজিয়ামকে।
এই গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১২৪ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে করা সর্বশেষ সময়ের গোল হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে। পাশাপাশি নকআউট পর্বে নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ফিরে এসে জয় পাওয়ার বিরল কীর্তিও গড়েছে বেলজিয়াম।
ম্যাচ শেষে কোচ রুডি গার্সিয়া বলেন, “বিশ্বাস থাকলে ফুটবলে সবকিছুই সম্ভব। শুধু শুরুর একাদশ নয়, বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও আমাদের বড় শক্তি। তারা নেমেই ম্যাচের গতি বদলে দিয়েছে।”
২০১৮ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে দুই গোল পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছিল বেলজিয়াম। সেই ম্যাচের চার তারকা থিবো কোর্তোয়া, রোমেলু লুকাকু, টমাস মুনিয়ের ও কেভিন ডি ব্রুইনা এবারও দলের হয়ে মাঠে ছিলেন। মুনিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট করেছেন, আর কোর্তোয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
অধিনায়কত্বের ভূমিকাতেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন লুকাকু। দ্বিতীয়ার্ধে পানিবিরতির সময় ইউরি টিলেমান্স ও লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলে তিনিই পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেন।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল বেলজিয়ামের পাওয়া পেনাল্টি। ভিএআর দেখে দেওয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিলের মতে, “এটি পেনাল্টি ছিল বলে আমার মনে হয় না।” অন্যদিকে রয় কিন বলেছেন, “সিদ্ধান্তটি কিছুটা কঠোর ছিল এবং রেফারি সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় নিয়েছেন।”
পরাজয়ের পর হতাশা প্রকাশ করেছেন সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও। তিনি বলেন, “এভাবে বিদায় নেওয়া খুব কষ্টের। ছেলেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু দুই গোলের লিড ধরে রাখতে পারিনি। এটাই ফুটবল, আমাদের এটি মেনে নিতে হবে।”
এদিকে শেষ ষোলোর আরেক ম্যাচে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ফলে আগামী পর্বে মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্র।
সেনেগালের বিপক্ষে এই অবিশ্বাস্য জয় আবারও প্রমাণ করেছে, শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা এবং অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় শক্তি।
(ঢাকাটাইমস/২ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































