কালিয়াকৈর থেকে দুবাই: ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের ৫০০ কোটি টাকার টেক সাম্রাজ্য

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০২৬, ১৪:২৯| আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ১৪:৪০
অ- অ+

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রযুক্তি খাতে অনেক কোম্পানি আছে। কিন্তু উৎপাদন থেকে শিক্ষা, দক্ষতা থেকে গ্লোবাল এক্সপ্যানশন—পুরো চেইন যার হাতে, সেটি একমাত্র ড্যাফোডিল কম্পিউটারস লিমিটেড (DCL)। DSE-তে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য অসাধারণ সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।

উৎপাদনের ভিত্তি: কালিয়াকৈরে ৩ লাখ বর্গফুটের মেগা কারখানা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে ড্যাফোডিলের ৩ লাখ স্কোয়ার বর্গফুটের অত্যাধুনিক কারখানা কোম্পানির মূল সম্পদ।

এখানে বিশ্বখ্যাত DELL অথবা ASUS-এর সাথে যৌথভাবে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ অ্যাসেম্বলিং প্ল্যান্ট চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। হাইটেক পার্কের ট্যাক্স-ভ্যাট ছাড় ও স্থানীয় উৎপাদনের সুবিধায় DCL-এর প্রতি ইউনিটে উৎপাদন খরচ 15-20% কমবে।

এর ফল: সরকারি, কর্পোরেট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের 800+ কোটি টাকার বার্ষিক টেন্ডার মার্কেট সরাসরি DCL-এর নিয়ন্ত্রণে আসবে। "আমদানিকারক" থেকে "প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক" হওয়ার এই রূপান্তর কোম্পানির আয় ও লাভজনকতা উভয়কেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

শক্তির উৎস: ড্যাফোডিলের ৩টি কৌশলগত গৌণ কোম্পানি

DCL-এর প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বা 'মোয়াট' হলো তার সাবসিডিয়ারি কাঠামো। এই তিনটি কোম্পানি মিলে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, লাভজনক ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে:

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল: উত্তরার রূপায়ন সিটিতে ৪২ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত আধুনিক ক্যাম্পাস এবং দেশব্যাপী একাধিক স্কুল পরিচালনার মাধ্যমে DCL K-12 শিক্ষা খাতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। Daffodil International University-এর ব্র্যান্ড ভ্যালু এখানে কাজ করায় অভিভাবকদের আস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

স্কিল জবস: এটি ড্যাফোডিলের ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি। দেশব্যাপী একাধিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে AI, সাইবার সিকিউরিটি, ক্লাউড কম্পিউটিং, হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ড্রোন টেকনোলজিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষিত জনবলই ড্যাফোডিলের কারখানা, সফটওয়্যার ডিভিশন ও ডাটা সেন্টারের মেরুদণ্ড হবে।

ডলফিন কম্পিউটারস: এটি ড্যাফোডিলের খুচরা ও সার্ভিস ফ্রন্ট। ঢাকার বনানীসহ সারাদেশে ৩টি নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র ডলফিনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সরাসরি গ্রাহক, কর্পোরেট ও আফটার-সেলস সার্ভিসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকায় প্রতি ইউনিট বিক্রিতে অতিরিক্ত লাভ DCL-এর পকেটে থাকছে।

দ্য ইকোসিস্টেম লুপ:

গ্লোবাল এক্সপ্যানশন: দুবাই ব্রাঞ্চের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য প্রবেশ

সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ: ড্যাফোডিল কম্পিউটারস এখন আর শুধু বাংলাদেশের কোম্পানি নয়। কোম্পানিটির দুবাই ব্রাঞ্চ চালু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের 500 বিলিয়ন ডলারের আইটি মার্কেটের দরজা খুলে গেছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য মানে কী?

রপ্তানি আয়: কালিয়াকৈরে তৈরি 'মেইড ইন বাংলাদেশ' ল্যাপটপ, ড্রোন ও সফটওয়্যার এখন সরাসরি UAE ও GCC দেশে বিক্রি হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে।

ব্র্যান্ড ভ্যালু: "DUBAI" ট্যাগ মানে গ্লোবাল ক্রেডিবিলিটি। দেশের কর্পোরেট টেন্ডারে DCL-এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

মার্জিন: মধ্যপ্রাচ্যে প্রযুক্তি পণ্যের মার্জিন বাংলাদেশের চেয়ে 25-30% বেশি। দুবাই ব্রাঞ্চ DCL-এর Overall PAT Margin বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।

মার্জিন সম্প্রসারণ: হার্ডওয়্যারের সাথে নিজস্ব সফটওয়্যার

ড্যাফোডিল নিজস্ব সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টেও সক্ষম। একটি ল্যাপটপের সাথে যখন নিজস্ব স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, এন্টারপ্রাইজ ERP বা সিকিউরিটি সলিউশন বান্ডেল করা হয়, তখন প্রতি ইউনিটের গড় মুনাফা 2-3 গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

ভবিষ্যতের বৃদ্ধি: ড্রোন ও ডাটা সেন্টার

ড্রোন ম্যানুফ্যাকচারিং: কৃষি, ভূমি জরিপ ও নিরাপত্তা খাতে ড্রোনের চাহিদা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। হাইটেক পার্কের সুবিধা নিয়ে ড্রোন উৎপাদন শুরু করলে DCL হবে এই খাতের দেশের প্রথম বড় ব্র্যান্ড। ডাটা সেন্টার: AI ও ক্লাউডের কারণে ডাটা স্টোরেজের চাহিদা বছরে 30%-এর বেশি হারে বাড়ছে। ড্যাফোডিলের নিজস্ব জমি ও টেক টিম থাকায় এই খাতে প্রবেশের জন্য কোম্পানিটি আদর্শভাবে প্রস্তুত।

বিনিয়োগকারীদের জন্য তাৎক্ষণিক মূল্য আনলক: NAV পুনর্মূল্যায়ন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাৎক্ষণিক ক্যাটালিস্ট: কালিয়াকৈরের ৩ লাখ বর্গফুটের কারখানা, উত্তরার ৪২ কোটি টাকার স্কুল ভবন ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি বর্তমান বাজার মূল্যে মূল্যায়ন করলে কোম্পানির Net Asset Value (NAV) প্রতি শেয়ার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

NAV বৃদ্ধির ফলে শেয়ারের বই-মূল্য শক্তিশালী হবে, P/B রেশিও কমে যাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হবে।

কেন DCL একটি 'অবশ্যই রাখার মতো' শেয়ার?

কারণ ড্যাফোডিল এখন একটি "বাংলাদেশ + গ্লোবাল" কোম্পানি। কালিয়াকৈরের কারখানা দেয় উৎপাদন, ৩টি গৌণ কোম্পানি দেয় ইকোসিস্টেম, দুবাই ব্রাঞ্চ দেয় গ্লোবাল মার্কেট, আর ড্রোন + ডাটা সেন্টার দেয় আগামীর গ্রোথ।

যারা বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির মূল প্রবৃদ্ধির গল্পের অংশীদার হতে চান, তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস (DCL) একটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও শক্তিশালী পছন্দ।

ড্যাফোডিলের ভবিষ্যৎ এখন বাংলাদেশের বাইরেও।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিক সমিতির চেয়ারম্যান সবুর খান যে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের ব্যবসায় আরও বেশি মনোনিবেশ করেছেন সেটা পরিষ্কার । সূত্রগুলো ঢাকা টাইমসকে নিশ্চিত করেছে সরকার তথ্য প্রযুক্তি খাতকে আরও এগিয়ে নিতে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে সেইখানে আরও একধাপ এগিয়ে থাকতে সবভাবে প্রস্তুত হচ্ছে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স। আগামীতে দিনগুলোতে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের আয় যেমন ক্রমান্বয়ে বাড়বে তেমনি ব্যবসাও সম্প্রসারণ হতে থাকবে বলে ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।

(ঢাকাটাইমস/২৭ জুন/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সবার সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: তথ্য উপদেষ্টা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ওসমান হাদিকে নিয়ে চিঠি
পাকিস্তানে সেনা অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ ৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত
বাংলাদেশে দুটি প্রকল্পে ১.১ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা