১০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন, মিলবে ২৪ ঘণ্টার সেবা
মোহাম্মদপুরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এবার ‘মিনি থানা’ ব্যবস্থা
পূর্ণাঙ্গ থানা হবে বসিলায়, অপরাধ দমনে জোর

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে ডিএমপি। পূর্ণাঙ্গ থানা চালুর অপেক্ষা না করে, এবার বসিলায় চালু হলো ‘মিনি থানা’ ধাঁচের এক বিশেষ ব্যবস্থা—যেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি সেবা, টহল ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুতই বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এলাকার আইনশৃঙ্খলার চিত্র।
এরইমধ্যে ‘বসিলা পুলিশ ক্যাম্পে’ একজন উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে চারজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও প্রায় ৩০ জন কনস্টেবল পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দুই প্লাটুন এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) সদস্য যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ জনের একটি বাহিনী সেখানে দায়িত্ব পালন করছে।
ডিএমপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বসিলা এলাকায় ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ থানা স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে থানা চালু হতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। ক্যাম্পটি থানার মতোই সেবা দেবে, কিন্তু আনুষ্ঠানিক মামলা ও পূর্ণ তদন্ত সংশ্লিষ্ট থানাতেই হবে।
তাৎক্ষণিক মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পুলিশ ক্যাম্প চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে— অপরাধ প্রতিরোধ, টহল ও তাৎক্ষণিক পুলিশি সেবা দেওয়া হবে এখান থেকে। ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ারের সার্বিক নির্দেশনায় আগামী বৃহস্পতিবার ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
রবিবার তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান ঢাকাটাইমসকে বলেন, বসিলার যে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ছিল, সেটিকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা হয়েছে। আগে থাকা সদস্যদের সঙ্গে আরও ১২ থেকে ১৩ জন পুলিশ সদস্য বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি দুই প্লাটুন এপিবিএন সদস্যও যুক্ত হয়েছেন।
তিনি জানান, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, ঢাকা উদ্যান ও চাঁদ উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় আজ রাত (রবিবার) থেকেই যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এসব এলাকায় নিয়মিত চিরুনি অভিযান ও চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ‘এলাকাগুলো তুলনামূলক ঘিঞ্জি ও অপরাধপ্রবণ। আগে সীমিত সংখ্যক পুলিশ সদস্য থাকায় তাদের উপস্থিতি দৃশ্যমান ছিল না। এখন অতিরিক্ত ফোর্স দেওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো এবং দিনে দুই থেকে তিনবার চিরুনি অভিযান চালানো সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে এবং অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হবে।’
জানা গেছে, ক্যাম্পটির অফিস বসিলা পুলিশ লাইনের ভেতরে একটি ছোট ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। দুটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং পুলিশ ফোর্সের জন্য পৃথক ব্যারাকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে কিছু সংস্কারকাজও চলমান রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার ঢাকাটাইমসকে জানান, ক্যাম্পটি থানার মতোই ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। এখান থেকে সাধারণ সেবা সহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের মতো বিচারিক কার্যক্রম, জিডি সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। আর প্রশাসনিকভাবে ক্যাম্পটি তেজগাঁও বিভাগের অধীনে পরিচালিত হবে।
আগামী বৃহস্পতিবার ‘ওপেন হাউস ডে’র মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হবে।
ডিএমপি কর্মকর্তারা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ থানা চালু করতে সময় লাগলেও বসিলায় এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। বিশেষ করে এপিবিএন সদস্যদের মোতায়েনের মাধ্যমে দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে, যা অপরাধপ্রবণতা কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































