কোর্টের ভিড়ে এক মুহূর্তের জন্য বাবার হাতটা ছাড়িনি: সামারুখ মীর্জা

বাবা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আদালতে তোলা হবে। তড়িঘড়ি করে গুলশান থেকে পুরান ঢাকায় ছুটে গেলেন মেয়ে সামারুখ মীর্জা। আদালতের ঠাসা ভিড় ঠেলে পৌঁছালেন ছোট্ট একটি কক্ষে, যেখানে গাদাগাদি করে বসিয়ে রাখা হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের। এ নিয়ে সামারুখ মির্জার আবেগঘন পোস্ট।
'আব্বুকে ১০ মিনিটের জন্য কোর্টে তোলা হবে, এই খবরটা পেয়েই আমি শাওয়ার ভেজা চুলে ছুটেছিলাম পুরান ঢাকার দিকে।
দিনটা আমার স্পষ্ট মনে আছে।
২০২৩ এর শেষ। ২০২৪ এর নির্বাচন সামনে।
আব্বু তখন জেলে।ঢাকায় এসেছি। চারদিকে কড়াকড়ি।
দুই সপ্তাহ পর পর মাত্র দুই মিনিট ফোন।
দেখা তো দূরের কথা।
তখনও একবারও সামনাসামনি আব্বুকে দেখিনি।সেদিন দুপুর। আমি আর আম্মু জাস্ট গোসল করে বারান্দায় বসেছি।
ভাত রান্না হচ্ছে। বারান্দার ফুলগাছ নিয়ে টুকটাক কথা বলছি।
হঠাৎ ইউনুস ভাই ফোন দিলো, "আজকে কোর্টে নিবে"।আম্মু আগের সপ্তাহেই ঘুরে এসেছে। জামিন হবে না সেটাও জানি। শুধু ১০ মিনিটের জন্য হাজিরা। গুলশান থেকে পুরান ঢাকা, লোয়ার কোর্ট। বিশাল জ্যাম।
কিন্তু বুকের ভেতর কে যেন বললো, "আব্বু যদি তোদের খোঁজে?"
আর কিছু ভাবিনি। একটা শাল গায়ে জড়িয়ে একা গাড়িতে উঠে বসলাম।
আম্মু নবাব ভাইকে বললো, "শামা গেছে, তুমিও যাও"।
আনিসুল ভাইকে শুধু বললাম, "ভাই একটু জোরে চালান"।পুরান ঢাকা। কিছুই চিনি না।
মানুষকে জিজ্ঞেস করতে করতে ৫ তলা পর্যন্ত উঠলাম। লিফট নাই।
উপরে উঠতেই মনে হলো, এই ভিড়ের মধ্যে যদি আজ আমাকে গোয়েন্দারা ধরে নিয়ে যায়? কেউ কিছু বলতেও পারবে না।হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে নবাব ভাই।
কোর্ট রুমে ঢোকা যাচ্ছে না। মানুষে গিজগিজ করছে।
ঠিক তখন একজন উকিল ভাই, নাম মনে নাই, কিন্তু শ্রদ্ধা সারাজীবন থাকবে — হাত ধরে বললেন, "আসেন আমার সাথে"।রুমে ঢুকেই দম বন্ধ।
খাঁচার মতো একটা জায়গা। চারপাশে শুধু মানুষ আর মানুষ।
আমি শুধু একটা মুখ খুঁজছি।তারপর হঠাৎ।
কে যেন আমার হাতটা শক্ত করে ধরলো।
তাকিয়ে দেখি আব্বু।
একটা বেঞ্চে বসে আছে। চোখে পানি এসে গেলো।পাশে বসলাম। হাত ছাড়িনি।
খসরু চাচা বললেন, "এদিকে আয় মা, ভিড়ের বাইরে বস"।
পাশেই ইসরাফিল ভাই।যতক্ষণ ছিলাম, এক সেকেন্ডের জন্যও হাত ছাড়িনি। ফিরে আসার সময় আরও শক্ত করে ধরে বলেছিলাম, "আব্বু, ইনশাআল্লাহ এর শেষ হবে। সব ঠিক হয়ে যাবে"।
১০ মিনিট। কিন্তু ওই ১০ মিনিটে একটা মেয়ে তার বাবার হাতটা আবার ছুঁতে পেরেছিল।
জেল, কোর্ট, কড়াকড়ি — সবকিছু পেরিয়েও বাবা-মেয়ের সম্পর্কটা আটকায় না। ওটা শুধু রক্তের টান না। ওটা বেঁচে থাকার সাহস।'
(ঢাকাটাইমস/১২ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































