মাসিক কিস্তি সুবিধায় ৫-৬ হাজার টাকায় স্মার্টফোন

দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়াতে কম দামে ডিভাইস সরবরাহ এবং সহজ কিস্তি সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন বাজারে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেহান আসিফ আসাদ।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে টিআরএনবি আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশে এখনো স্মার্টফোনের বিস্তার ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে। অথচ সরকার ৪জি ও ৫জি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে কাজ করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের হাতে উপযুক্ত ডিভাইস না পৌঁছালে এসব প্রযুক্তির সুফল পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে সবচেয়ে কম দামের স্মার্টফোন কিনতেও প্রায় ১০ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়, যা কৃষক, শ্রমিক কিংবা রিকশাচালকের নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই ২ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে।
উপদেষ্টা জানান, মোবাইল প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, একটি বেসিক ৪জি অ্যান্ড্রয়েড ফোন তৈরিতে গ্লাস, চিপ, পিসিবি বোর্ড, ব্যাটারি ও কেসিংসহ প্রায় ৬০ ডলার খরচ পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিপের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এরপরও সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরির উপায় খুঁজছে।
তিনি বলেন, শুধু কম দামে ফোন বাজারে আনাই নয়, গ্রাহকদের জন্য সহজ কিস্তি সুবিধাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য মোবাইল অপারেটর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও প্রস্তুতকারকদের সমন্বয়ে একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইএমআই সুবিধা চালু হলে একজন গ্রাহক মাত্র ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়েই স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করতে পারবেন। পরে ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, সরকার টেলিকম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি সবার জন্য দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে লাস্ট মাইল ফাইবার সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী, এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার, এফআইসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল কবীর, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী এবং বাংলালিংক-এর হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমানসহ টেলিকম খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।
(ঢাকাটাইমস/১৭ মে/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































