শিরোনাম :

মধ্যরাতে নিশীথ সূর্যের দেখা মেলে যে দেশে, জানুন বিশ্বকাপে নরওয়ের বিস্ময়কর তথ্য

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৫:০৮| আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৫:১১
অ- অ+

উত্তর ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ নরওয়ে শুধু অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্যই নয়, বরং তার অনন্য প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণেও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ‘মিডনাইট সান’ বা ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ হিসেবে খ্যাত এই দেশে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যরাতেও সূর্যের আলো দেখা যায়, যা পর্যটকদের কাছে এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা।

উত্তর ইউরোপের একটি রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র (রাজার শাসন চলে কিন্তু আক্ষরিক অর্থে কোনো ক্ষমতা নেই) নরওয়ের অফিসিয়াল নাম কিংডম অব নরওয়ে। রাজধানী অসলো। নরওয়ের মুদ্রাকে ক্রোনার বলা হয়। ১ ক্রোনারে দাঁড়ায় বাংলাদেশি ১০ টাকা। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আন্না সলবার্গ।

দেশটিতে অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছে পাকিস্তানিরা। এরপর সোমালিয়া, আফগানিস্তান ছাড়াও ইউরোপের নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পোলিশ, সুইডিস এবং লিথুয়ানিয়ান ও লাটভিয়ার নাগরিক। নরওয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তিপ্রিয় দেশ। নরওয়ে নিশীথ সূর্যের দেশ নামেও পরিচিত। যেখানে মধ্যরাতেও সূর্যের দেখা মেলে।

নরওয়ের ফিয়র্ড ও পর্বতমালার উপর শুধু অন্তহীন সোনালী আলো। এই কারণেই নরওয়েকে 'মধ্যরাতের সূর্যের দেশ' বলা হয় – এটি একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যেখানে উত্তরে সপ্তাহ বা এমনকি মাস ধরেও সূর্য অস্ত যায় না।

নরওয়ের সরকারি নাম ‘কিংডম অব নরওয়ে’। এটি একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, যেখানে রাজা রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজধানী অসলো। প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটিতে জনসংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ।

নরওয়েতে সর্বমোট ৯৮টি বিমানবন্দর রয়েছে যেগুলোর আন্তর্জাতিক কোড রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি বিমানবন্দরে সাধারণ প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট চলাচল করে এবং ৪৫টি বিমানবন্দর সরকারি অপারেটর 'অ্যাভিনোর' দ্বারা পরিচালিত হয়।

দেশটির পূর্বে সুইডেন, উত্তর-পূর্বে ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া এবং পশ্চিমে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত। দীর্ঘ উপকূলরেখা, বিশাল ফিয়র্ড, তুষারাচ্ছন্ন পর্বতমালা ও মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে নরওয়েকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নরওয়ের সবচেয়ে আলোচিত প্রাকৃতিক ঘটনা হলো ‘মিডনাইট সান’। দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা আর্কটিক সার্কেলের মধ্যে হওয়ায় গ্রীষ্মকালে সূর্য দীর্ঘ সময় অস্ত যায় না। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের শেষভাগ পর্যন্ত কিছু অঞ্চলে টানা কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাসও ২৪ ঘণ্টা দিনের আলো বিরাজ করে। বিশেষ করে ট্রমসো, হ্যামারফেস্ট ও স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে এই দৃশ্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

অন্যদিকে শীতকালে ঘটে এর ঠিক উল্টো ঘটনা। তখন ‘পোলার নাইট’ বা মেরু রাত্রির কারণে দীর্ঘ সময় সূর্য দিগন্তের ওপরে ওঠে না। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় অন্ধকারে ঢাকা থাকে এসব অঞ্চল।

প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নরওয়ে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হয়েছে। দেশটি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, জলবিদ্যুৎ ও সামুদ্রিক সম্পদে সমৃদ্ধ। নরওয়ের মাথাপিছু আয় বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে একটি এবং মানব উন্নয়ন, জীবনমান, সুখ ও সামাজিক নিরাপত্তার সূচকেও দেশটি নিয়মিতভাবে শীর্ষ অবস্থানে থাকে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নরওয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার্বভৌম সম্পদ তহবিল পরিচালনা করছে। তেল ও গ্যাস খাতের আয়ের বড় অংশ এই তহবিলে জমা রাখা হয়, যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়।

নরওয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো দেশটির প্রকৃতিনির্ভর জীবনধারা। পর্বতারোহণ, স্কিইং, হাইকিং, মাছ ধরা এবং বিভিন্ন আউটডোর কর্মকাণ্ড দেশটির মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। শীতকালীন ক্রীড়াক্ষেত্রেও নরওয়ের সাফল্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।

দেশটিতে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সড়ক টানেলগুলোর একটি—লারডাল টানেল, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪.৫ কিলোমিটার। এছাড়া ভাইকিং সভ্যতার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব নীতির জন্যও নরওয়ে বিশেষভাবে পরিচিত।

প্রাকৃতিক বিস্ময়, উন্নত জীবনমান, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও অনন্য ভৌগোলিক অবস্থানের সমন্বয়ে নরওয়ে আজ বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেশগুলোর একটি। আর মধ্যরাতে সূর্যের দেখা পাওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা দেশটিকে দিয়েছে আলাদা পরিচয়।

নরওয়ে জাপানি সুশিতে স্যামন প্রবর্তন করতে একটি মূল ভূমিকা পালন করেছে, পরজীবী সম্পর্কিত উদ্বেগের কারণে মাছটি সম্পর্কে প্রাথমিক সংশয় কাটিয়ে উঠেছে। নরওয়ের শিল্প-স্কেলের স্যামন উৎপাদন সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করা, মাছের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, জাপানি রন্ধনশৈলীতে স্যামনের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার দিকে নিয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে আমেরিকায় পৌঁছানো প্রথম ইউরোপীয়রা নরওয়েবাসী হতে পারে, যা ক্রিস্টোফার কলম্বাসকে কৃতিত্ব দেয় এমন ঐতিহ্যগত বর্ণনাকে চ্যালেঞ্জ করে। ভাইকিং অভিযাত্রী লিফ এরিকসন প্রায় ১০০০ সালের আশপাশে উত্তর আমেরিকায় পৌঁছেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়, কলম্বাসের শতাব্দী আগে। এই আবিষ্কার অন্বেষণে নরওয়ের ঐতিহাসিক অবদানকে তুলে ধরে এবং প্রাথমিক ট্রান্সআটলান্টিক যোগাযোগের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করে।

নরওয়ের ভাইকিংরা, আইকনিক নাবিক, আটম শতাব্দীর শেষ থেকে এগারো শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত ভাইকিং যুগে সমৃদ্ধ হয়েছিল। তাদের সামুদ্রিক দক্ষতা তাদের অন্বেষণ করা এবং বসতি স্থাপন করা বিশাল অঞ্চল দ্বারা প্রমাণিত, উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছে। যদিও সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা চ্যালেঞ্জিং, তাদের প্রভাব প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য, ইউরোপ জুড়ে এবং তার বাইরে ভাইকিং নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, এই গতিশীল ঐতিহাসিক যুগে তাদের ব্যাপক প্রভাব দেখায়।

নরওয়ে শীতকালীন খেলাধুলায় সবচেয়ে সফল দেশগুলির মধ্যে একটি, বিশেষ করে ক্রস-কান্ট্রি স্কিইং এবং বায়াথলনের মতো শৃঙ্খলায়। শীতকালীন অলিম্পিকে, নরওয়ে ক্রমাগতভাবে পদক সংখ্যায় শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ সালের পিয়েংচাং শীতকালীন অলিম্পিকে, নরওয়ে মোট ৩৯টি পদক অর্জন করেছিল, যার মধ্যে ১৪টি স্বর্ণ ছিল। ক্রস-কান্ট্রি স্কিইং-এ, মারিট বিয়োর্জেন এবং জোহানেস হোসফ্লট ক্লাবোর মতো নরওয়েজিয়ান অ্যাথলিটরা বিশ্ব মঞ্চে আধিপত্য বিস্তার করেছে, অসংখ্য অলিম্পিক এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ পদক অর্জন করেছে। এই সংখ্যাগত এবং দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য শীতকালীন খেলাধুলায় নরওয়ের অতুলনীয় অর্জনকে তুলে ধরে।

নরওয়ে ১৮টি ফিফা বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ করেছে এবং চারবার মূল টুর্নামেন্টে খেলেছে, যথাক্রমে ১৯৩৮ , ১৯৯৪ , ১৯৯৮ এবং ২০২৬ সালে । তাদের সেরা ফলাফল ছিল ১৯৯৮ সালে রাউন্ড অফ ১৬-এ পৌঁছানো। ২০২৬ সালে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে হারার আগ পর্যন্ত, তাদের একটি অদ্ভুত কৃতিত্ব ছিল যে তারা ফাইনাল পর্বে ইতালির বিপক্ষে খেলা ছাড়া অন্য কোনো ম্যাচে হারেনি।

১৯৩৮ সালে প্রথম রাউন্ডে সরাসরি নকআউট পর্বে ইতালির কাছে হেরেছিল।

১৯৯৪ সালে মেক্সিকোকে হারানোর পর সর্বনিম্ন গোল করার কারণে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েছিল, ইতালির কাছে হেরেছিল এবং রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের সাথে ০-০ গোলে ড্র করেছিল যার ফলে চারটি দলেরই ৪ পয়েন্ট এবং ০-গোল পার্থক্য ছিল।

১৯৯৮ সালে স্কটল্যান্ড ও মরক্কোর সাথে ড্র করার পর পিছিয়ে পড়েও ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অফ ১৬-এ পৌঁছেছিল যেখানে তারা ইতালির কাছে পরাজিত হয়েছিল।

(ঢাকাটাইমস/৫ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় প্রথমবার অংশ নিচ্ছেন উপজেলা আনসার সদস্যরা
ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেকে স্বাক্ষর আদায়, অভিযুক্ত লিটু গ্রেপ্তার
হুথিদের হামলায় ইয়েমেনের ১৪ সরকারি সেনা নিহত
নিজেদের করা আইনেই আ. লীগের বিচার করা সম্ভব: চিফ প্রসিকিউটর
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা