শিরোনাম :

প্রতিশোধ ও আমেরিকা ধ্বংস হোক স্লোগানে প্রকম্পিত ইরানের মোসাল্লা, খামেনির শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২১
অ- অ+

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান গত শনিবার থেকে তেহরানে শুরু হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা তার পরিবারের চার সদস্যসহ নিহত হন। যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হওয়া এই শোকানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে।

কালো পোশাক পরিহিত এবং শিয়া ইসলামের ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতীকী রক্ত-লাল পতাকা হাতে অংশগ্রহণকারীরা “আমেরিকা ধ্বংস হোক” এবং “প্রতিশোধ, প্রতিশোধ” স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে তোলেন বলে জানানো হয়।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো দেশটির ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, বিপ্লবী আদর্শ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি রাজনৈতিক অবস্থান প্রদর্শন করা।

কফিন পৌঁছানোর আগেই মোসাল্লা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। দীর্ঘ ৩৭ বছর দেশ শাসন করা এই নেতার মৃত্যুতে শোকাহত মানুষ কান্না, বুক চাপড়ানো এবং আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের ছবি এবং তার ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির ছবি সংবলিত পোস্টারও প্রদর্শিত হয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষ এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানকে “শতকের সেরা জানাজা” হিসেবে অভিহিত করেছে। সরকারি অনুমান অনুযায়ী, তেহরানে এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার শুরু উপলক্ষে কেন্দ্রীয় তেহরানে বিপুল সংখ্যক শোকাহত মানুষের সমাগম হয়েছে, যেখানে অনেকে “প্রতিশোধ” দাবি করে স্লোগান দিচ্ছেন।

গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনাকেন্দ্রের দরজা স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় শোকাহতদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর আগের রাত থেকেই অনেকে সেখানে জড়ো হন।

খামেনির কফিন, যা ইরানের পতাকায় মোড়ানো ছিল, একই হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিনের পাশে একটি উঁচু মঞ্চে রাখা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলা যুদ্ধের প্রথম দিন সংঘটিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খামেনির তিন বছর বয়সী নাতনির কফিনও সেখানে প্রদর্শিত ছিল। শোকাহতরা পুরুষ ও নারীদের পৃথক লাইনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।

মঞ্চের ওপর একটি ব্যানারে কোরআনের একটি আয়াত লেখা ছিল: “বল, আমি তোমাদের একটিই উপদেশ দিচ্ছি—তোমরা আল্লাহর জন্য দাঁড়াও, জোড়ায় জোড়ায় অথবা একা একা”—যা অনুষ্ঠানের স্লোগান “উঠে দাঁড়াও”-এর ধর্মীয় ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কিছু সময় পর জনতা বুক চাপড়ে “প্রতিশোধ, প্রতিশোধ” এবং “আমেরিকা ধ্বংস হোক” স্লোগান দেয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভিড়ের মধ্যে একটি ব্যানার দেখায় যেখানে লেখা ছিল: “আমাদের শহীদ নেতার প্রতিশোধ কোথায়?” আরেক দৃশ্যে এক নারীর হাতে “প্রতিশোধ” লেখা দেখা যায়।

শোকাহতরা ইরানের পতাকা, নেতার প্রতিকৃতি, “মুষ্টিবদ্ধ হাত” প্রতীক এবং তার ছেলে ও উত্তরসূরি আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ছবি বহন করেন। তারা “লাব্বাইক ইয়া খামেনি” স্লোগানের মাধ্যমে আনুগত্য প্রকাশ করেন।

মোজতবা খামেনি জানাজায় উপস্থিত হবেন কি না তা নিশ্চিত নয়। একই হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে দেখা দেননি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

চার মাসের বেশি সময় ধরে নিয়মিত শোকসমাবেশে অংশ নেওয়া মানুষজন মোসাল্লায় আসতে থাকেন।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এবং গত মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরই জানাজার আয়োজন সম্ভব হয় বলে দাবি করা হয়। তবে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ চলমান রয়েছে।

শনিবার রাত নামার পরও শোকাহতদের ঢল অব্যাহত ছিল। অনেকে কফিনের সামনে দিয়ে হেঁটে শ্রদ্ধা জানাতে থাকেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিনজুড়ে ভিড় এত বেশি ছিল যে স্থানটি কয়েকবার পূর্ণ হয়ে আবার খালি করতে হয়েছে।

তেহরান নগর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মেট্রোর মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ মানুষ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

জানাজার নামাজ রবিবার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিট) পাঁচটি কফিনের ওপর পাঠ করার কথা রয়েছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি রবিবার জানাজা পরিচালনা করবেন না।

এর আগের দিন প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদল সরকারি অনুষ্ঠানে কফিনে শ্রদ্ধা জানান।

এদের মধ্যে কাতার, ওমান ও সৌদি আরবের মতো আরব রাষ্ট্রগুলোর উপস্থিতি কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করে বলে উল্লেখ করা হয়।

যুদ্ধ চলাকালে ইরান বিভিন্ন আরব দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং সম্প্রতি বাহরাইন ও কুয়েতেও হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খেরেইজি, আর রাশিয়ার পক্ষ থেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ অংশ নেন।

শোকসভায় কুরআনের বদর যুদ্ধ সম্পর্কিত আয়াত পাঠ করা হয়, যেখানে ছোট একটি দল বড় বাহিনীকে পরাজিত করে—এটি প্রতীকী বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

কর্তৃপক্ষ বিশাল জনসমাগমের পূর্বাভাস দিয়েছে, যেখানে তেহরান ও আশপাশের শহরগুলো মিলিয়ে কয়েক কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকায় শোকাহতদের ওপর পানি ছিটানো হয় এবং মোসাল্লায় শীতলীকরণ ব্যবস্থা চালু রাখা হয়।

অনেকে যানজট এড়াতে কয়েক কিলোমিটার দূরে গাড়ি পার্ক করে হেঁটে আসেন। তিনটি মেট্রো স্টেশনও সাময়িকভাবে চালু রাখা হয়।

শোকানুষ্ঠান রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। এরপর সোমবার তেহরানে শোভাযাত্রা, মঙ্গলবার কোমে, বুধবার নাজাফ ও কারবালায় এবং বৃহস্পতিবার মাশহাদে দাফনের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানানো হয়।

(ঢাকাটাইমস/৫ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পূবাইলে একই দিনে দুই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
খামেনির জানাজায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৫০৮ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৫০
ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল: তাপপ্রবাহে পরিস্থিতি বিপর্যস্ত, চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে আগুন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা