সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় ভিকারুননিসার ৬০০ শিক্ষার্থীকে সচেতন করল সিআইডি

প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের জীবনের বড় একটি অংশ আবর্তিত হচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে সাইবার প্রতারণা, পরিচয় চুরি, অনলাইন হয়রানি ও তথ্য ফাঁসের মতো ঝুঁকিও। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন প্রয়োজন, তেমনি এর নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হওয়াও সময়ের অন্যতম বড় দাবি বলে মনে করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এ লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয় ‘Cyber Awareness Enhancement Program’। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ও বিকাশ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সানা শামিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিসির বিশেষ পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ এবং বিকাশের ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স এ কে এম মনিরুল করিম। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রজন্ম একই সঙ্গে বাস্তব ও ডিজিটাল—এই দুই জগতেই বসবাস করছে। প্রযুক্তির বিস্তার যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি নতুন ধরনের ঝুঁকি ও অপরাধের ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। ফলে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এর নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কেও সমানভাবে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
তিনি শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি ও পিন নম্বর গোপন রাখা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
সানা শামিনুর রহমান বলেন, ‘‘সাইবার অপরাধীরা মানুষের অসতর্কতাকেই সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। সচেতনতাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’’
তিনি আরও বলেন, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাইবার নিরাপত্তা এখন জীবনদক্ষতার অংশ
প্রধান বক্তা অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিনোদন ও দৈনন্দিন নানা কার্যক্রম এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সাইবার নিরাপত্তা আর কেবল প্রযুক্তিবিদদের আলোচনার বিষয় নয়; এটি প্রতিটি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নাগরিকের জন্য অপরিহার্য জীবনদক্ষতায় পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি ওটিপি শেয়ার করা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ একজন মানুষকে বড় ধরনের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। তাই সচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসই সাইবার নিরাপত্তার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নীতিনির্ধারক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের মধ্যে দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্বের মূল্যবোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবার ও সমাজে সচেতনতার দূত হওয়ার আহ্বান
বিশেষ পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ বলেন, বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে। প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি তারা অন্যদেরও সচেতন করবে এবং ডিজিটাল প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবে।
বিকাশের ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স এ কে এম মনিরুল করিম বলেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। তবে সচেতনতা বাড়ার ফলে আগের তুলনায় মানুষ এখন অনেক বেশি সতর্ক। অনুষ্ঠানে মোবাইল আর্থিক সেবাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিভিন্ন প্রতারণার কৌশল নিয়ে দৃশ্যচিত্রও উপস্থাপন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম এ ধরনের উদ্যোগের জন্য সিআইডিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সুরক্ষায়ও কাজে লাগাবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































