আজ বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন বিদেশে

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর আজ রবিবার (২৬ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর তিনি সপরিবারে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে শিগগিরই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংককে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ। তাই চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই বিদেশ সফরে যাবেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র পাঠান মো. সাহাবুদ্দিন। পরে সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন।
অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ অনুযায়ী তার দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জানান, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েক দিন ধরেই তার ব্যক্তিগত মালপত্র গুলশানের বাসভবনে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। বাসভবনের পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
এদিকে, বগুড়ার শেরপুরে শনিবার এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংবিধান ও প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
একই দিন রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ওই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। তাই বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য থাকার সুযোগ নেই। ফলে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সব সাংবিধানিক দায়িত্ব ও আনুষ্ঠানিকতা তিনি পালন করবেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ত্যাগ করার পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে তিনি বাসভবন হিসেবে সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করবেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ রোববার সকাল ১১টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
(ঢাকাটাইমস/২৬ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































