কঙ্গোতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইবোলা ভাইরাস, মহামারির ঝুঁকিতে বিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫
অ- অ+

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩৫৪ জনের। পরিস্থিতিকে আফ্রিকার ইতিহাসে দ্রুত বর্ধনশীল ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর একটি হিসেবে দেখছে আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (আফ্রিকা সিডিসি)।

চিকিৎসকদের মতে, এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী ইবোলার বিরল ‘বান্ডিবুগিও’ প্রজাতির ভাইরাস। এই প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট কার্যকর ওষুধ নেই। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক গবেষকদের উদ্যোগে নতুন চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে।

কঙ্গোতে ইবোলা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতির পাশাপাশি দেশটির পূর্বাঞ্চলের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা এবং চলমান যুদ্ধের কারণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলার বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ভাইরাসটির ছয়টি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে— জাইর, সুদান, বান্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি।

ইবোলা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্রসহ শরীরের বিভিন্ন তরলের সংস্পর্শে এলে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, চিকিৎসা সরঞ্জাম কিংবা মৃতদেহের সংস্পর্শ থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া শিম্পাঞ্জি, গরিলা ও অন্যান্য বনজ প্রাণীর মাধ্যমেও মানুষের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইবোলার সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ তীব্র জ্বর, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি, ত্বকে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া এবং গুরুতর পর্যায়ে রক্তক্ষরণ।

ডব্লিউএইচও বলছে, বাতাসে ছড়ায় না বলে ইবোলার সংক্রমণ হার তুলনামূলক কম হলেও এর মৃত্যুহার অনেক বেশি। সাধারণত মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ হলেও কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে তা ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঙ্গোর বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও এটি কোভিড-১৯-এর মতো বিশ্বব্যাপী মহামারিতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি কম। কারণ ইবোলা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শই সংক্রমণের প্রধান কারণ।

তবে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের ঘটনা এখনো বিশেষজ্ঞদের মনে রয়েছে। ওই সময়ে প্রায় ২৮ হাজার ৬০০ মানুষ আক্রান্ত হন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

কঙ্গোর প্রতিবেশী উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান ও রুয়ান্ডার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সীমান্তবর্তী যোগাযোগ ও বাণিজ্য ব্যবস্থার কারণে উগান্ডায় ইতোমধ্যে দুজনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং নিরাপদ চিকিৎসা ও দাফন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।

তবে কঙ্গোর সংঘাতপূর্ণ ও খনি অঞ্চলগুলোতে মানুষের চলাচল বেশি হওয়ায় ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

(ঢাকাটাইমস/২৬ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
এসএসসি পরীক্ষার ফল কবে প্রকাশ হবে? জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিনের প্রথম কার্যদিবস শুরু
‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৩ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪০
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা