আবারও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস চোখ রাঙাচ্ছে, পাবনায় স্বাস্থ্যকর্মীসহ আক্রান্ত ৮ জন

নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে করোনাভাইরাস। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস চীনের উহান থেকে ২০২০ সালের শুরুতেই ছড়িয়ে পড়ে। কোভিড-১৯ নামে অতিক্ষুদ্র অদৃশ্য এক ভাইরাস বছরের পর বছর পৃথিবীকে অস্থির করে রেখেছে। এখনো যার ত্রাস অব্যাহত আছে। ক্ষুদ্র্র এই ভাইরাস মানুষের জীবনের স্বপ্ন ও পরিকল্পনার অনেক কিছুই চুরমার করে দিয়েছে। অনেক মানুষ চিরকালের জন্য তার প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। অনেক মানুষ প্রিয়জনের সাহচর্য ছাড়া নিঃসঙ্গ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির থাবা এখনও শেষ হয়ে যায়নি।
বাংলাদেশে আবারও নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। পাবনায় নতুন করে আরও আটজনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছয়জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল।
তিনি জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন নার্স, একজন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং দুজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালের এক কর্মীর মেয়েরও করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে আরও একজন ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাসিন্দা, তার বয়স ৩৩ বছর।
সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মামুন আব্দুল্লাহ জানান, গত ১০ মে উপজেলার ৪৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে সাতজনের করোনা শনাক্ত হয়। এর আগে ৯ মে হাসপাতালের এক ইপিআই টেকনিশিয়ানের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। এরপর হাসপাতালের অন্য কর্মীদেরও নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
এদিকে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে যাতায়াত সীমিত করতে লকডাউন কার্যকর করেছে উপজেলা প্রশাসন। সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ জানান, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোয়ারেন্টিনে থাকা বাড়িগুলোতে প্রবেশ বা বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।সংক্রমণ ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিছু পরামর্শ দিয়েছে। সেগুলো হলো— জনাকীর্ণ ও বদ্ধ জায়গায় মাস্ক পরতে হবে। কাশি বা হাঁচির সময় নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে। কোভিড এবং টিকার নতুন নতুন তথ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। বিশেষ করে, যাঁরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন। অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকুন। লক্ষণ দেখা দিলে রোগ শনাক্তের পরীক্ষা করতে হবে।
করোনাভাইরাস আমাদের নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। আর সেটা হলো রোগ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা। আমরা আগে থেকেই জানতাম যে প্রতিরোধ সব সময় প্রতিকারের চেয়ে ভালো। তবে এটাকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অথচ রোগমুক্ত থাকার প্রথম উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ করা।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমাদের জীবনযাপনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের খাবার আর তার ভেতরে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদানের একটি বিরাট ভূমিকা আছে। চিকিৎসকেরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যে খাদ্য উপাদানের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেন, সেটি হলো জিঙ্ক। এটি শরীরে অল্প পরিমাণে লাগে। তাই বলে একে মোটেও হেলাফেলা করা যাবে না। প্রত্যেকেরই উচিত রক্তে জিঙ্কের স্বাভাবিক মাত্রা যাতে বজায় থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা।
করোনাভাইরাস ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। ফুসফুসের মধ্যে টাইটোনিমোসাইড বা টি সেলে ভাইরাস বংশবিস্তারের জন্য উপযুক্ত স্থান। যখন শরীরে কোনো ভাইরাস ঢোকে, তখন প্রথমে আমাদের শরীরে থাকা বিভিন্ন কোষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর এই কোষগুলোই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে, তাদের কোষ সক্রিয়তাও বেশি থাকে। আবার অনেক সময় ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে শরীর প্রচুর পরিমাণে কোষ ছাড়তে থাকে। এই অবস্থাকে শরীরে সাইটোকাইন স্ট্রম বলে। ফলে, শরীর আরও অসুস্থ হয়ে যায়। তখনই রোগীকে আইসিইউতে নিতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রধান কার্যকর উপাদান হচ্ছে জিঙ্ক।
এ ছাড়া যারা একেবারে খেতে পারে না বা মুখে রুচি নেই, তাদের জিঙ্ক ওষুধ দেওয়া হয়। জিঙ্ক মুখের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে জিঙ্ক বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ট্যাবলেটের পাশাপাশি আমরা পেতে পারি মাংস, গরুর কলিজা, দুধ, ডিমজাতীয় খাবারে।
ফ্লু বা সর্দি-কাশি উপসর্গে জিংকের বেশ উপকারিতা রয়েছে। জিংক-সমৃদ্ধ খাবারগুলো হচ্ছে আদা, রসুন, ডাল, বিন্স, বাদাম, সামুদ্রিক মাছ ইদ্যাদি। বাজারে লজেন্স আকারে জিংক সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন ২-৩ ঘণ্টা পর পর।শরীরে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী না থাকে, তাহলে আমাদের প্রচুর পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খান। ফলের রসের পরিবর্তে গোটা ফল চিবিয়ে খেলে ভালো। এতে পুষ্টি সাথে ফাইবারও পাওয়া যাবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, ৮ থেকে ১০ গ্লাস। ফাস্টফুড, তেল-চর্বি ও মসলা জাতীয় খাবার যতটুকু সম্ভব পরিহার করুন।
ভিটামিনস ও মিনারেল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(ঢাকাটাইমস/২৬ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































