যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বস্তির বার্তা ও আশাবাদের সুর তুললেন বার্নহ্যাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩৭
অ- অ+

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই মধ্য-বামপন্থী লেবার সরকারের নীতি ও নেতৃত্বের ধরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি তার পূর্বসূরি কেয়ার স্টারমারের পথ থেকে স্পষ্টভাবে সরে আসার চেষ্টা করছেন। ৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে ব্রিটিশ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য তিনটি স্বস্তিমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। এটিকেই তিনি তার নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার করেছেন।

লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তিনি গৃহস্থালির বিদ্যুৎ বিলের ওপর আরোপিত একটি কর প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি, ইংল্যান্ডে অধিকাংশ বাসভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ এবং পাব, ক্লাব ও লাইভ মিউজিক ভেন্যুগুলোর ব্যবসায়িক কর ২০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।

এর বিপরীতে, দুই বছর আগে ক্ষমতায় এসে স্টারমারের প্রথম দিকের অন্যতম সিদ্ধান্ত ছিল লাখো প্রবীণের শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কমিয়ে দেওয়া। পরে তাকে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হয়। ওই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ক্ষতি তিনি আর কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

বার্নহ্যামের এ প্রাথমিক স্বস্তিমূলক পদক্ষেপে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি স্টারমারের মতো আর্থিক শৃঙ্খলার নীতিতে কতটা অটল থাকবেন। তবে বার্নহ্যামের দাবি, এটি নতুন ব্যয় নয়, বরং সরকারি ব্যয়ের ‘পুনঃঅগ্রাধিকার নির্ধারণ।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অন্যান্য ভূরাজনৈতিক সংকট জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

তাকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক বিষয়ও মোকাবিলা করতে হবে। তবে, ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্টারমারের তুলনায় কম বিদেশ সফর করবেন। স্টারমার বিদেশে যুক্তরাজ্যের গ্রহণযোগ্যতা পুনর্গঠনে সক্রিয় থাকলেও বিরোধীরা তাকে ‘নেভার হিয়ার কেয়ার’ বলে বিদ্রƒপ করত।

সাবেক লেবার সরকারের উপদেষ্টা প্যাট্রিক ডায়মন্ড বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে শুরুতেই আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়াটা বার্নহ্যাম সরকারের জন্য ভালো হয়েছে। তবে সামনে যে অনেক ঝড় অপেক্ষা করছে, সেটাও স্পষ্ট।’

সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছে বার্নহ্যাম কোনো লিখিত বক্তব্য ছাড়াই এবং প্রচলিত বক্তৃতা মঞ্চ ব্যবহার না করে ভাষণ দেন। এতে ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে টানা নয় বছরে গড়ে তোলা তার সহজ-স্বাভাবিক ভাবমূর্তিরই প্রতিফলন দেখা যায়।

তবে তিনি তার পরিচিত গাঢ় রঙের টি-শার্ট ও জ্যাকেটের বদলে স্যুট-টাই পরেছিলেন। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলফিভিত্তিক অনানুষ্ঠানিক ভিডিও প্রকাশের ধারা তিনি বজায় রেখেছেন।

অভিষেক ভাষণে বার্নহ্যাম ‘আশা ফিরিয়ে আনার’ ওপর জোর দেন। এটি স্টারমার সরকারের অবস্থান থেকে ভিন্ন। স্টারমার সরকার ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের পর ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার তুলে ধরেন।

শুক্রবার বার্নহ্যাম ম্যানচেস্টারে তার নতুন 'নাম্বার ১০ নর্থ' কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। ইংল্যান্ডে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি সপ্তাহে অন্তত একদিন সেখানে কাজ করবেন।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটি হবে ‘নতুনভাবে গড়ে ওঠা ব্রিটেনের স্নায়ুকেন্দ্র’, কোনো ‘স্বল্পস্থায়ী প্রচারণামূলক উদ্যোগ’ নয়। বার্নহ্যাম ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করার অঙ্গীকার করেছেন। তবে কিছু বিশ্লেষক এ প্রতিশ্রুতিকে বিদ্রƒপাত্মক বলে মনে করছেন। কারণ, তার সমর্থকরাই সম্প্রতি স্টারমারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভূমিকা রেখেছেন।

বুধবার তিনি মন্ত্রিসভা থেকে স্টারমারপন্থী একাধিক সদস্যকে বাদ দেওয়া এবং নিজের ঘনিষ্ঠদের পদোন্নতি দেওয়াকে দলীয় বিভাজনের পদক্ষেপ বলে যে সমালোচনা উঠেছে, তা নাকচ করে দেন।

বার্নহ্যাম বলেন, ‘সরকারকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন ছিল। আমি সেটিই চেয়েছিলাম। রাজনীতির বাস্তবতা এটাই।’

লেবার পার্টির এমপিদের সমর্থনে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হননি। ফলে, তার গণসমর্থনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন অব্যাহত থাকতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক টনি ট্রাভার্স বলেন, তিনি যেসব সমস্যা মোকাবিলা করছেন, তার অনেকগুলোই ৩০, ৪০ কিংবা ৫০ বছর ধরে তৈরি হয়েছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দক্ষিণ চীন সাগরে ভিয়েতনামের জাহাজডুবি, নিখোঁজ ২৩
সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই করছে সরকার: আইনমন্ত্রী
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: মির্জা ফখরুল 
চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা