শিরোনাম :

ফুটবল, সাম্বা আর আমাজনের দেশ ব্রাজিল

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৪
অ- অ+

দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল শুধু ফুটবলের জন্যই নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং প্রাণবন্ত জীবনধারার জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। আয়তন ও জনসংখ্যা—উভয় দিক থেকেই বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলকে অনেকেই ‘উৎসব ও আনন্দের দেশ’ বলে অভিহিত করেন।

প্রায় ৮৫ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের প্রায় অর্ধেকজুড়ে বিস্তৃত। ইকুয়েডর ও চিলি ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় সব দেশের সঙ্গেই এর সীমান্ত রয়েছে। রাজধানী ব্রাসিলিয়া, যা মাত্র ৪১ মাসে নির্মিত হয়েছিল এবং বর্তমানে আধুনিক নগর পরিকল্পনার একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

ব্রাজিলের অন্যতম বড় পরিচয় হলো আমাজন রেইনফরেস্ট। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রান্তীয় বনভূমির প্রায় ৬০ শতাংশই ব্রাজিলের ভেতরে অবস্থিত। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই বনভূমি পৃথিবীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইভাবে আমাজন নদী বিশ্বের সর্বাধিক পানিবাহী নদী হিসেবে পরিচিত, যা আটলান্টিক মহাসাগরে বিপুল পরিমাণ পানি বহন করে নিয়ে যায়।

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও ব্রাজিলের রয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। সাম্বা ও বোসা নোভার মতো সংগীতধারা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। আফ্রিকান, ইউরোপীয় এবং স্থানীয় সংস্কৃতির মিশেলে গড়ে ওঠা ব্রাজিলিয়ান সংস্কৃতি প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময়। প্রতি বছর অনুষ্ঠিত কার্নিভাল উৎসব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও আকর্ষণীয় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।

ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্যরীতি। আফ্রিকান, আদিবাসী এবং ইউরোপীয় সংস্কৃতির বিনিময়ে সাম্বার জন্ম। ২০ শতকের শুরুর দিকে রিও ডি জেনিরোর আফ্রো-বংশীয় সম্প্রদায়ের হাত ধরে এটি জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে এটি ব্রাজিলের জাতীয় সংস্কৃতির আইকন হিসেবে পরিণত হয়। সাম্বা শুধু নাচের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, ব্রাজিলের ফুটবল খেলার শৈল্পিক ছন্দ ও ড্রিবলিংকে প্রায়ই 'সাম্বা স্টাইল' বা সাম্বা ছন্দ বলা হয়ে থাকে। মাঠের খেলায় তাদের নান্দনিক নিয়ন্ত্রণকে এই সংস্কৃতির সাথে তুলনা করা হয়।

ভিন্ন সংস্কৃতির জন্য এবং তাদের ব্যক্তিগত বিষয়ের জন্য বিশ্রী হলেও ব্রাজিলীয়রা অপরিচিতদের সঙ্গে পরিচয় পর্বে চুমু দিয়ে অভিবাদন জানায়।এখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সঙ্গে পুরুষের পরিচয় পর্বের শুরু এবং শেষে উভয় গালে চুমু দেয়ার রীতি গতানুগতিক। বেইজস (চুম্বন) এখানে কোন কোন সময় পরিবারে আপনাকে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে পারে। গাল-নাক মিলানো শুভেচ্ছা বিনিময় তাদের জন্য একটি জোরালো শক্তি।

খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে বৈচিত্র্য। গরু, মুরগি ও শুকরের গ্রীল করা মাংস বা ‘চুরাসকো’ ব্রাজিলের জনপ্রিয় খাবার। এছাড়া চাল, মটরশুটি, বিভিন্ন ফল এবং স্থানীয় বিশেষ খাবার ব্রাজিলিয়ানদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ। দেশটিতে কাজুসহ নানা ধরনের দেশীয় ফল ব্যাপক জনপ্রিয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কফি উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল শীর্ষে। কৃষি, শিল্প, খনিজ সম্পদ ও পর্যটন খাত দেশটির অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক ব্রাজিল ভ্রমণ করেন, যা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

তবে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পরিচয় নিঃসন্দেহে ফুটবল। পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো, রোমারিও, কাকা ও গারিঞ্চার মতো কিংবদন্তি ফুটবলারদের জন্ম দিয়েছে এই দেশ। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলও ব্রাজিল, যারা রেকর্ড পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে।

বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে অংশ নেওয়ার অনন্য রেকর্ডও রয়েছে ব্রাজিলের। ফুটবলের প্রতি দেশটির মানুষের আবেগ এতটাই প্রবল যে খেলাটি তাদের জাতীয় পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি—সবখানেই ফুটবল ব্রাজিলিয়ান জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ফুটবল ইতিহাসে সোনালী অতীত রয়েছে ব্রাজিলের। ফুটবলের জন্য পরিচিতি পাওয়া এই দেশে অনেক ফুটবল লিজেন্ড রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম পেলে, রোনাল্ডো , রোনালদিনহো , রোমারিও , গারিনচ্চা, কাকা প্রমুখ। ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ওয়ার্ল্ডকাপ জিতেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল সবচেয়ে সফল জাতীয় দল, যারা পাঁচটি শিরোপা জিতেছে এবং দুইবার করে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। আর্জেন্টিনা, স্পেন এবং জার্মানির সাথে ব্রাজিল সেই চারটি দেশের মধ্যে একটি যারা নিজেদের মহাদেশের বাইরে ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে ( সুইডেন ১৯৫৮ , চিলি ১৯৬২ , মেক্সিকো ১৯৭০, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪ এবং দক্ষিণ কোরিয়া/জাপান ২০০২ )।

ব্রাজিল একমাত্র জাতীয় দল যারা কোনো অনুপস্থিতি বা প্লে-অফের প্রয়োজন ছাড়াই ফিফা বিশ্বকাপের সব সংস্করণে খেলেছে । আনুপাতিক এবং পরম উভয় দিক থেকেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স সেরা, যেখানে তারা ২২টি টুর্নামেন্টে ১১৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৬টি জয়, ১২৯ গোল পার্থক্য , ২৪৭ পয়েন্ট এবং মাত্র ১৯টি পরাজয়ের রেকর্ড করেছে।

ঐতিহ্যগতভাবে, ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হলো আর্জেন্টিনা । ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই দুই দেশ চারবার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে ব্রাজিল দুইবার (পশ্চিম জার্মানি ১৯৭৪ ও স্পেন ১৯৮২) জিতেছে, আর্জেন্টিনা একবার (ইতালি ১৯৯০) জিতেছে এবং একটি ম্যাচ (আর্জেন্টিনা ১৯৭৮) ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে সুইডেন : সাতবার, যার মধ্যে ব্রাজিল পাঁচবার জিতেছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অন্য তিনটি ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী হলো ইতালি , যারা ব্রাজিলের বিপক্ষে দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরেছে এবং দুটি টুর্নামেন্টে (ফ্রান্স ১৯৩৮ ও স্পেন ১৯৮২) ব্রাজিলিয়ানদের প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দিয়েছে; ফ্রান্স, যারা ব্রাজিলকে তিনবার (মেক্সিকো ১৯৮৬ , ফ্রান্স ১৯৯৮ ও জার্মানি ২০০৬) পরাজিত করেছে; এবং নেদারল্যান্ডস , যারা তাদের পাঁচটি সাক্ষাতের মধ্যে দুটিতে (পশ্চিম জার্মানি ১৯৭৪ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০) ব্রাজিলকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দিয়েছে, নিজেরা অন্য দুটিতে ( যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪ ও ফ্রান্স ১৯৯৮) প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েছে এবং ব্রাজিল ২০১৪-তে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয়লাভ করেছে ।

(ঢাকাটাইমস/৫ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই
জাইকা বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী: মির্জা ফখরুল
হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
মিরপুরে বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার ২৬ জন গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা