হজ ব্যবস্থাপনা আমূল বদলে দিচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল কায়কোবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৪| আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:০০
অ- অ+

হজ ব্যবস্থাপনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল সমন্বয়হীনতা, সেবার ঘাটতি ও শৃঙ্খলার অভাব। তবে চলতি বছর সেই চিত্র বদলানোর জোরালো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকি এবং কড়াকড়ি নির্দেশনার মাধ্যমে হজ কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।

ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ঢাকা টাইমসকে বলছে, এবার হজ ব্যবস্থাপনায় শুধু নির্দেশনা নয়, বাস্তবায়ন পর্যায়েও নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে হাজী ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, খাবারের মান, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিচ্ছন্নতায় একযোগে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হজযাত্রীদের খাবারের মান নিয়ে অতীতে নানা অভিযোগ থাকলেও এবার সে জায়গায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। উন্নতমানের খাবার নিশ্চিত করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাবারের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে জানান, আগে খাবারের মান নিয়ে যে অভিযোগগুলো ছিল, এবার সেগুলো কমানোর জন্য শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো হজযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা ও উন্নত চিকিৎসার সংযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এমনকি খোদ মন্ত্রী চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নেন।

হাজী ক্যাম্পে পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে মশা নির্মূলেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিদিন ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এতে করে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো মন্ত্রীর নিজস্ব তদারকি। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ নিজেই নিয়মিত হাজী ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন এবং সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রতিদিনের অগ্রগতি, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছেন।

একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে জানান, মন্ত্রী নিজে মাঠে থাকায় সবাই অনেক বেশি দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করছেন। সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত হচ্ছে এবং বাস্তবায়নও ত্বরান্বিত হচ্ছে।

গত ১৫ এপ্রিল আশকোনা হজ অফিসে হজ টিমের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, হাজীদের খেদমতে কোনো গাফলতি সহ্য করা হবে না। হজ টিমের সদস্যদের ‘খাদেম’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

নতুন ব্যবস্থাপনায় ভালো কাজের স্বীকৃতিও রাখা হয়েছে। যারা হাজীদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবেন, তাদের পরবর্তী বছরেও দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, অবহেলার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম। আলেম-ওলামা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধারার মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের সম্পৃক্ততা এই পরিবর্তন উদ্যোগকে বাস্তবায়নে সহায়ক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পরিকল্পনা, তদারকি এবং জবাবদিহিতা এই তিনটি জায়গায় একসঙ্গে কাজ হওয়ায় হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সেবাকেন্দ্রিক একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

সব মিলিয়ে, কঠোর নির্দেশনা, সরাসরি তদারকি এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হজ ব্যবস্থাপনাকে নতুন মাত্রায় নেওয়ার চেষ্টা করছেন ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ। এখন সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

(ঢাকাটাইমস/২০ এপ্রিল/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন থেকে মুসলিমদের দূরে থাকার আহ্বান
কুমিল্লায় থ্রি-হুইলার আটককে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাংচুর
ইউনূসের কালো আইনে অর্থনীতির সর্বনাশ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা