সংরক্ষিত নারী আসন

আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও ত্যাগীরাই প্রাধান্য পেলেন

জাহিদ বিপ্লব
  প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৩
অ- অ+

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।

ঘোষিত তালিকায় স্থান পেয়েছেন মূলত রাজপথে পরীক্ষিত, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা নেত্রীরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্মে অবদানের বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশই উচ্চশিক্ষিত এবং ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এ তালিকায় সাবেক ১০ জন সংসদ সদস্য স্থান পেয়েছেন। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত তিন নারী নেত্রীও সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মহিলা দল, ছাত্রদল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং দলের মিডিয়া সেলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন থেকে একাধিক নেত্রী মনোনয়ন পেয়েছেন।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই নেত্রী—যারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পরিচিত—তাদেরও মূল্যায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়াত নেতা শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন এবং কারাগারে নির্যাতনে নিহত বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন পিন্টুর বোন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা দলীয় ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে এই মনোনয়ন তালিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ দেখা গেছে। নিপুণ রায় চৌধুরী, নিলুফার ইয়াসমিন মনি, আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি, সুলতানা জেসমিন জুই, সেলিনা সুলতানা নিশিথা ও ফরিদা ইয়াসমিনের মতো রাজপথের সক্রিয় নেত্রীদের অন্তর্ভুক্তি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে সবকিছুই যে সমালোচনামুক্ত, তা নয়। কয়েকজন মনোনয়নপ্রাপ্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট এক নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এছাড়া কিছু প্রার্থীর ক্ষেত্রে পারিবারিক পরিচয়—বাবা, স্বামী বা ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব রয়েছে বলেও আলোচনা হচ্ছে।

জানা গেছে, বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন সহস্রাধিক নারী নেতা, যার মধ্যে ৯ শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। এসব প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেয় দলটির মনোনয়ন বোর্ড। যাচাই-বাছাই শেষে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং নির্যাতিত নেত্রীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়।

মনোনয়ন পেয়ে প্রতিক্রিয়ায় সুলতানা জেসমিন জুই ঢাকা টাইমসকে বলেন, রাজপথের সংগ্রামের মূল্যায়ন হওয়ায় তিনি আনন্দিত এবং ভবিষ্যতেও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সাবেক ছাত্রনেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন ঢাকা টাইমসকে বলেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু তাদের ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং পুরো ত্যাগী কর্মীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা—দল রাজপথের অবদানকে মূল্যায়ন করে।

মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, “যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তারা সবাই পরীক্ষিত ও ত্যাগী। এখানে ত্যাগ, শ্রম ও সংগ্রামের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে।”

সব মিলিয়ে বিএনপির এই মনোনয়ন তালিকায় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও, কিছু বিতর্কও সমানতালে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি এখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

জেবি

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন থেকে মুসলিমদের দূরে থাকার আহ্বান
কুমিল্লায় থ্রি-হুইলার আটককে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাংচুর
ইউনূসের কালো আইনে অর্থনীতির সর্বনাশ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা