ইউক্রেনের রাজধানীতে রাশিয়ার হামলায় নিহত ১২

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় মঙ্গলবার ভোরে রাশিয়ার বিমান হামলায় ১২ জন নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টানা ষষ্ঠ দিনের মতো কিয়েভে রুশ হামলা হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির ওপর বিমান হামলা আরো বাড়িয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি ধীর হয়ে আসার মধ্যেই এসব হামলা জোরদার করা হয়েছে।
গত পাঁচ দিন ধরে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। এতে মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলায় ব্যবহৃত অনেক ড্রোনের নতুন সংস্করণে জেট ইঞ্জিন থাকায় এগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় দিন-রাত ধরে চলা এসব হামলার কারণে লাখ লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমান হামলার সতর্কতা জারি থাকছে। মঙ্গলবার সকালেও কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেন, রাতভর হামলায় রাশিয়ার ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকা এবং রেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তিনি ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোকে রাশিয়ার ওপর আরো অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা রাশিয়ার সম্পদ ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা আবারও শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।
সিবিহা বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে কোনো লাভ নেই। তিনি ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ারও আহ্বান জানান।
কারণ রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ইউক্রেনে দ্রুত কমে যাচ্ছে। কিয়েভে রেল স্থাপনায় হামলা
কিয়েভে বিভিন্ন স্থানে হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে প্রতিষ্ঠান ইউক্রজালিজনিতসিয়ার প্রধান ওলেকসান্দর পার্তসভস্কি জানান, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি রেল ডিপোসহ বিভিন্ন রেল স্থাপনায় ৬ জন কর্মী নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের বাইরে বোরিসপিল এলাকায় একটি আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় ৪ জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, রাতের হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জেটচালিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ছোট চালান পেয়েছে। এদিকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল ওদেসায় ন্যাটো সদস্য রোমানিয়ার সঙ্গে থাকা একটি সীমান্ত ক্রসিংয়েও হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য রপ্তানির প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত ওদেসার বন্দর ও জাহাজে বারবার হামলার কারণে দেশটির কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, হামলায় ওই এলাকার হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।
রাশিয়াতেও হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন
ইউক্রেনও রাশিয়ার ওপর হামলা বাড়িয়েছে। মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে দেশটি তেল স্থাপনা ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে।
রাশিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র উস্ত-লুগা বন্দরে আগুন লেগেছে। এ ছাড়া সামারা অঞ্চলে বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে এবং এটি মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলেও হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে ভারপ্রাপ্ত গভর্নর জানিয়েছেন।
অন্যদিকে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের চালানো একটি হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন কিছু সময়ের জন্য এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল।
এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্নো পেভকুর বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের ঘটনা কয়েকবার ঘটেছে। এতে ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর হামলায় কিয়েভ ও ওদেসা এবং আশপাশের এলাকায় সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
থমকে আছে শান্তি আলোচনা
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা শান্তি আলোচনা এ বছর থমকে গেছে। ইউক্রেন রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী নিজেদের ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা এগোয়নি। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সোমবার জেলেনস্কি জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা করেছেন। ইউক্রেনে তাদের সম্ভাব্য সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































