পদ্মা সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যাওয়া বাসের ভিডিও ভাইরাল, ৫০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত

বেপরোয়া গতিতে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে ধাক্কা দিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গেছে। এতে শিশুসহ অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে মাগুরা থেকে ঢাকাগামী ‘নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেস’ বাসটি পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ঢালে পৌঁছালে অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি সড়কের পাশের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে বেশ কয়েকজন যাত্রী আটকা পড়েন। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
আহতদের মধ্যে আটজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন—গুরা সদর এলাকার সাইফুল্লাহ (৮০) ও লুৎফর (৬৩), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার রেবেকা খাতুন (৪০), দামুড়হুদার নূর ইসলাম (৪৬) ও রশিদা (৪০), মাগুরার মোহাম্মদপুরের সাত বছর বয়সী ফাতেমা, শ্রীপুরের সাইফ (২৩) এবং ফরিদপুরের মধুখালীর আরাফাত (১৩)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পদ্মা সেতুর ওপর সামনে থাকা একটি বাসকে দ্রুতগতিতে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছিল দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি স্লিপ করে সড়কের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পেছনের দিকে কিছুদূর গিয়ে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনায় পদ্মা সেতুর পূর্ব পাশের রেলিংয়ের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে পূর্ব পাশের ব্যারিয়ারের ওপরের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেলিং মেরামতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে এবং এতে আনুমানিক দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।
তিনি আরও জানান, সেতুর সড়কে কিছু দাগ পড়লেও তা গুরুতর নয়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাসের যাত্রী ও সেতুর অবকাঠামো রক্ষা পেয়েছে।
দুর্ঘটনার পর প্রায় ৮ থেকে ১০ মিনিট পদ্মা সেতুতে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে এক পাশ দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিস, সেতু কর্তৃপক্ষের টহল গাড়ি ও রেকারের সহায়তায় বেলা আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হলে সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে পদ্মা উত্তর থানায় রয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাসটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, সেতুতে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দূরত্বে বিলবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে।
সেতুতে প্রায় ৪০০ মিটার পরপর ১৬টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা রয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো সেতু পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তবে অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমা মানছেন না বলে জানান তিনি। দুর্ঘটনার সময় সেতুর ওপর থাকা কয়েকটি যানবাহনের গতি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
(ঢাকাটাইমস/১ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































