খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে কমবে লোডশেডিং: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭
অ- অ+

দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংকটের মাত্রা বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আশা করছি যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা বেশ খানিকটা কমে আসবে উইদিন আ ভেরি শর্ট পিরিয়ড।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে প্রচণ্ড গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে লোডশেডিংয়ের বোঝা শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ঢাকাতেও এখন লোডশেডিং হচ্ছে।

বড় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহরে বেশি বিদ্যুৎ দেওয়া হয় সেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকার কারণে; সেখানে ‘পাওয়ারফুল মানুষ’ বসবাস করেন বলে নয়। তবে বর্তমান সংকটে সবাইকে কষ্ট ভাগ করে নিতে হবে—এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছিল তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে কত মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল, তার বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

তার দাবি, অতীতে লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কয়েকটি কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদার কারণে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে বিদ্যুতের চাহিদা কম ছিল।

সংকট মোকাবিলায় ঢাকার ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকশ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে বলে জানান।

সবশেষে জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশ বর্তমানে একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের কষ্ট সবাইকে কমবেশি ভাগ করে নিতে হবে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং সংকট মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/১ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ জনগণের আস্থা ধরে রাখা: রিজভী
পদ্মা সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যাওয়া বাসের ভিডিও ভাইরাল, ৫০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য বড় সুখবর, অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা