এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স

বিশ্বকাপের বত্রিশ দলের নকআউট পর্বের ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল এবং ব্র্যাডলি বারকোলার এক গোলে সহজ জয় পেয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। একই সঙ্গে ম্যাচটিতে একাধিক রেকর্ড গড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এমবাপ্পে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় ফ্রান্স। একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও অফসাইড, পোস্টে বল লাগা এবং গোল মিসের কারণে প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় গোলের দেখা পায়নি তারা।
২০তম মিনিটে এমবাপ্পে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ৩২তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে নেওয়া তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। চার মিনিট পর ওলিসের দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিকও পোস্টে আঘাত হানে। ফিরতি বলে উসমান দেম্বেলের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অপেক্ষার অবসান ঘটে। ৪৫তম মিনিটে দেম্বেলের পাস থেকে শক্তিশালী শটে সুইডেনের জালে বল জড়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ১৭তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে ফ্রান্স। ৫৩তম মিনিটে ওলিসের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বারকোলা। চলতি আসরে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল।
এরপর ৭৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। ওলিসের তৈরি করা আক্রমণ থেকে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেন তিনি। ফলে সর্বকালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা লিওনেল মেসির ১৯ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল দূরে পৌঁছে যান ফরাসি তারকা। একই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে ৬ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে আসেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে আরও একটি রেকর্ড গড়েন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৯-এ। এর আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও এবং লিওনিদাস ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন।
৮৫তম মিনিটে জোড়া গোল করার পর এমবাপ্পেকে তুলে নেন কোচ দিদিয়ের দেশম। তার বদলে মাঠে নামেন জ্যাঁ-ফিলিপ মাতেতা। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই জোড়া গোল করলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা, যদিও হ্যাটট্রিকের অপেক্ষা এবারও শেষ হয়নি।
এদিকে এমবাপ্পের জোড়া গোলের আড়ালে থাকলেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন ওলিসে। বারকোলা ও এমবাপ্পের দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৫-এ নিয়ে যান তিনি। এর মাধ্যমে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জার্মানির টমাস হ্যাসলারের এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড স্পর্শ করেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার।
দাপুটে এই জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করল ফ্রান্স। আর এমবাপ্পে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করলেন।
(ঢাকাটাইমস/১ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































