গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দিল ভারত, উত্তরাঞ্চলে লোকালয় প্লাবিত

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতে দেশের উত্তরাঞ্চলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, শংকোষ ও ফুলকুমারসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তা অতিক্রম করে প্রবাহিত হওয়ায় রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার, শুরু হয়েছে নদীভাঙনও। আতঙ্কে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা।
ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় অন্তত ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী, গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। বাদাম, ধানের বীজতলা ও বিভিন্ন সবজিখেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তার পানি বেড়ে সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চর প্লাবিত হয়েছে। লক্ষ্মীটারী, কোলকোন্দ, নোহালী ও মর্ণেয়াসহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধসহ কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে দুধকুমার নদের পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার বিকালে পাটেশ্বরী পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। নদীতীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে লোকালয় প্লাবিত হতে শুরু করেছে। দক্ষিণ তিলাই গুচ্ছগ্রাম এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
কুড়িগ্রামে দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, শংকোষ ও ফুলকুমার নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। চরাঞ্চলের বহু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। রোপা আমনের বীজতলা ও কৃষিজমি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী তিন দিন তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানির সমতল আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসন সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, শুকনো খাবার মজুত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতীরবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিংও চালানো হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুরসহ উজান অঞ্চলে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
(ঢাকাটাইমস/৩০ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































