ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ

ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে এক ব্যক্তি নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে মারধর এবং অফিসের কম্পিউটার ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মৎস্য কর্মকর্তা বাদী হয়ে নড়াইলের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে জিসানুর রহমানের (৩০) নামে মামলা করেছেন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জিসানুর রহমান প্রায়ই বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চাইতেন। তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জিসানুর অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালমন্দ করে থাকেন।
রোববার (২৮ জুন) বিকেলে জিসানুরসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জেলার সুবিধাভোগী সদস্যের প্রদর্শনী তালিকা চান।
মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, তিনি এর আগেও তাকে একাধিকবার তথ্য দিয়েছেন। এই কথায় জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে আবু রায়হানকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে কিল-ঘুষি মেরে নাক, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।
এ সময় অফিসের কর্মচারীরা আবু রায়হানকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।
মারধরের সময় অফিসের টেবিলে থাকা প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর আছড়ে ভেঙে ফেলেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জিসানুর। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিসানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেন তাকে বরং মারধর করা হয়েছে।
ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে জিসানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে উপকারভোগীদের নামের তালিকা চেয়েছিলাম। তথ্য না পেয়ে ফিরে আসার সময় অফিসের কর্মচারী বলেন আমি নাকি সবকিছু মোবাইল ফোনে ভিডিও করে নিয়ে যাচ্ছি। এক পর্যায়ে মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা মেঝেতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন।’
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে রোববার রাত নয়টার দিকে মামলাটি রজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
(ঢাকাটাইমস/২৯জুন/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































