আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত চেয়ে আপিল, শুনানি চলছে

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৭
অ- অ+

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত হবে কি না, সে বিষয়েও শুনানি চলছে।

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট আবুল কালাম আযাদের আপিলের শুনানি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছিলেন আপিল বিভাগ।

আপিলকারী পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১৩ বছর আগে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে গত ৬ জুলাই আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ। আপিল করতে বিলম্ব হওয়ায় ৪ হাজার ৯১৫ দিনের বিলম্ব মার্জনার আবেদনও করা হয়েছে।

পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে।

আবুল কালাম আযাদের আপিলটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হয়ে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। তার পক্ষে আদালতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও আইনজীবী মীর ওসমান বিন নাসিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

এর আগে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, মামলার পেপারবুক প্রস্তুত না থাকা এবং আপিলকারী পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কপি না দেওয়ার কারণে রাষ্ট্রপক্ষ শুনানি মুলতবির আবেদন করেছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে ১৭ আগস্ট শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার আগে থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। এর আগেই তার দেশে ফেরার খবর প্রকাশ্যে আসে।

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রায় ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন আবুল কালাম আযাদ। ওই দিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহ এবং আপিল বিভাগ যথাযথ আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে বর্তমান অবস্থায় রাখার নির্দেশ দেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। ওই বিচার কার্যক্রমের প্রথম রায়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন ট্রাইব্যুনাল। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও মৃত্যুদণ্ড থাকায় পৃথকভাবে ওই চার অভিযোগের সাজা কার্যকর করার প্রয়োজন হয়নি।

এখন আপিল বিভাগে তার করা আপিলের পাশাপাশি বিলম্ব মার্জনা ও মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন নিয়ে শুনানি চলছে।

(ঢাকাটাইমস/১৭ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ মতবিনিময় সভা
৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে আবারও কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বদলে ১১৬৪ কোটি টাকায় আধুনিকায়ন হচ্ছে ঢাকা মেডিক্যাল
পশ্চিমবঙ্গে হোটেলে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৭
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা