প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে জুলাইয়ে এপিবিএনের সাফল্য, বিপুল মাদক-স্বর্ণ উদ্ধার

তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত ও কার্যকর নাগরিক সেবা দিতে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানসহ সাইবার অপরাধ দমন ও বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট।
এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখা থেকে পাওয়া তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তার ভিত্তিতে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে জুলাই মাসে ৮৪৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯১০ কেজি কসমেটিকস, ১৮৭টি শাড়ি ও থ্রি-পিস, দুটি মোবাইল বা ল্যাপটপ, ৩২২ কেজি সামুদ্রিক কাঁকড়া, দুটি এফডিএমএন কার্ড, ২৩৬ কেজি খাদ্যদ্রব্যসহ আরও ৪১১ কেজি বিভিন্ন ধরনের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
সাইবার অপরাধ দমনে প্রযুক্তির ব্যবহার
এপিবিএনের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের আওতায় চারটি ফেসবুক আইডি ও তিনটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একটি ভুয়া ফেসবুক আইডিসংক্রান্ত অভিযোগেরও সমাধান করা হয়।
এ ছাড়া প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩টি সিম ও একটি ফেসবুক আইডি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারকের কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার ২৬০ টাকা এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ৪৮টি টি-শার্ট ও একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি সাইবার বুলিংসংক্রান্ত সমস্যারও সমাধান করা হয়েছে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে জুলাই মাসে সারা দেশে ৫০৮ জনকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার
মাদকবিরোধী অভিযানে জুলাই মাসে ১২ হাজার ৪২১টি ইয়াবা, ১ দশমিক ১৮ কেজি গাঁজা, ৩২ লিটার মদ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৮৫ কার্টন সিগারেট, ৭২টি ভেপ সিগারেট ও ৭২টি বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বিক্রির ৬৭ হাজার ১৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ১০টি মামলা করে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অস্ত্রবিরোধী অভিযানে দুটি ওয়ানশুটার গান, ১৬ রাউন্ড গুলি, একটি দেশীয় ধারালো দা বা হাসুয়া এবং একটি দেশীয় লোহার দা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ট্রাফিক ও অন্যান্য অভিযানে জরিমানা
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জুলাই মাসে ৩৩১টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএসটিআই ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অভিযানে আরও ৩১ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়েছে ৩৬ জনকে।
বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ জন এবং এজাহারনামীয় ১৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হত্যা মামলায় দুজন, অপহরণ মামলায় তিনজন ও ধর্ষণ মামলায় দুজন রয়েছেন।
এপিবিএনের বিভিন্ন অভিযানে ১৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২১টি যানবাহন আটক করা হয়। এ সময় ৮৪ হাজার টাকা বাংলাদেশি মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়েছে।
জুলাই মাসে এপিবিএনের ৮, ১৪ ও ১৬ ইউনিটের মাধ্যমে মোট ৩১টি জিআর/সিআর মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন।
এ বিষয়ে এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের পুলিশ সুপার (ট্রেনিং, ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আসমা বেগম রিটা বলেন, এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবা আরও সম্প্রসারণে এপিবিএন অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে অপরাধ দমন, দ্রুত সেবা প্রদান ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































