রিকশা শ্রমিকদের ৫ দফা দাবি, দাবি না মানলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ব্যাটারিচালিত রিকশা ডাম্পিং ও পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতি। একই সঙ্গে আটক করা সব রিকশা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
রবিবার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে আয়োজিত রিকশা শ্রমিক সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়। বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতি এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, রিকশা শ্রমিকসহ অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষের বাঁচার দাবি পূরণ করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা শ্রমিকবান্ধব সরকার। শ্রমজীবী মানুষের মানবিক জীবন নিশ্চিত না হলে তাঁদের কাছে গণতন্ত্র কোনো অর্থ বহন করবে না।
সাইফুল হক বলেন, রিকশা শ্রমিকদের মানবাধিকার নিয়ে কেউ কথা বলে না। চলমান বিদ্যুৎ সংকট বৃদ্ধির দায়ও অবিশ্বাস্যভাবে রিকশা শ্রমিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে। এ জন্য সরকারসহ উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি অবিলম্বে ব্যাটারিচালিত রিকশা নির্বিচারে ডাম্পিং ও শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আটক করা সব রিকশা ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেন। দাবি পূরণ না হলে রিকশা শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সংগঠনের সভাপতি জামাল সিকদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, বাংলাদেশ বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক আহসান বিল্লাল, কেন্দ্রীয় নেতা তুহিন খান ও মোহাম্মদ শান্ত।
সমাবেশ থেকে রিকশা শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন, পুলিশি হয়রানি ও রিকশা ডাম্পিং বন্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রিকশার জন্য আলাদা লেন তৈরি, অটোরিকশা শ্রমিক পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং শ্রমিকদের জন্য স্বল্প খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, জীবিকার তাগিদে বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে নিজেদের ও পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে রিকশা ডাম্পিং, পুলিশি হয়রানি ও নানা ধরনের নির্যাতনের কারণে এসব শ্রমিক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের জীবন-জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































