শ্রমিক দলের নেতাকে কুপিয়ে জখম, যুবদল নেতা জাহিদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ওয়ার্ড শ্রমিক দলের নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে রাসেলকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মোড়লসহ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আহত রাসেল ঢাকা মহানগর উত্তর ৩১ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি প্রার্থী। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার শেরেবাংলা নগর থানায় রাসেলের স্ত্রী শিরীন আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে জাহিদ হোসেন মোড়লকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—পিচ্চি রাকিব, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, পিচ্চি জুয়েল, মনির হোসেন, মনির হোসেন শান্ত, পাপ্পু, আসাবুর রহমান, লিমন, মামা সাইফুল, সোহেল, সুজন ওরফে কালা সুজন, আল আমিন, ছোট ফেরদৌস, জাফর, জসিম, ইমরান, খাইরুল, ইমরান হোসেন বায়েজিদ, উজ্জল, জীবন ও ফেরদৌস।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আবু বক্কর সিদ্দিক রাসেল ব্যবসার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে প্রধান আসামি জাহিদ হোসেন মোড়ল তার ওপর আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। রাসেলকে শায়েস্তা ও প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে জাহিদ মোড়ল অন্য আসামিদের সঙ্গে পরিকল্পনা করছিলেন বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রাসেল অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা সামুরাই, চাপাতি ও লোহার রড নিয়ে তার ওপর হামলা চালান।
এজাহারে আরও বলা হয়, জাহিদ হোসেন মোড়লের নির্দেশে হামলার সময় মনির হোসেন শান্ত সামুরাই দিয়ে রাসেলের মাথা ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে কোপ দেন। প্রাণরক্ষার্থে ডান হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করতে গেলে তার ডান হাতের কনুইয়ে গুরুতর জখম হয়।
এ সময় পাপ্পু চাপাতি দিয়ে রাসেলের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই আঘাত বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করতে গেলে তার বাম হাতের তিনটি আঙুলে চাপাতির আঘাত লাগে। অন্য আসামিরাও চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসেলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
রাসেলের স্ত্রী শিরীন আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি রাজনৈতিক পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তাকে প্রার্থী না হওয়ার জন্য জাহিদ মোড়ল নিষেধ করেছিলেন। এ বিরোধের জেরেই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, হামলায় রাসেলের হাতের কনুই গুরুতরভাবে কেটে গেছে। একই স্থানে বারবার রড দিয়ে আঘাত করায় হাতের মাংসপেশিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তার হাত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে মামলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/১৬ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































