বগুড়ায় কোকোর নামে জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স হবে: আমিনুল হক

ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর নামে বগুড়ায় ২০ একর জমির ওপর আধুনিক ‘জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, দেশের প্রতিবন্ধী ও প্যারা ক্রীড়াবিদদের একত্র করে এই কমপ্লেক্সের মাধ্যমে প্যারা স্পোর্টসকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্যারা ক্রীড়াবিদেরা সাফ গেমস, এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক এনে দেশের গৌরব আরও বাড়াবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নেও আরাফাত রহমান কোকোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল বলে উল্লেখ করেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, কোকো শুধু ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন না, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একাডেমিভিত্তিক ও তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, দেশের ক্রিকেট আজ যে অবস্থানে এসেছে, এর পেছনে কোকোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। নিজ উদ্যোগে ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্রিকেটের বিকাশেও ভূমিকা রাখেন।
কোকোর ক্রিকেট উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে ‘হোম অব ক্রিকেট’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নয়ন ও খেলোয়াড় তৈরিতে তিনি ভূমিকা রাখেন। তার উদ্যোগে একাডেমিভিত্তিক ক্রিকেট উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
আমিনুল হক আরও বলেন, ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে কোচ এনে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একাডেমিভিত্তিকভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটকে সমন্বিত করে একটি শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামো গড়ে তোলাই ছিল তার লক্ষ্য।
কোকোর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দূরে থেকেই তাকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহমর্মিতার রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চাই না। সহমর্মিতার রাজনীতির মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব হাজী মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এমপি, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এমপি, এবিএম আবদুর রাজ্জাক, আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, গাজী রেজাউল হোসেন রিয়াজ, মাহবুব আলম মন্টুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































