সংস্কার ও রূপান্তরের দুই বছরে নতুন সক্ষমতায় আনসার-ভিডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৭
অ- অ+

সংস্কার ও রূপান্তরের দুই বছরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে এসব সংস্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে সংস্কার ও রূপান্তরের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মহাপরিচালক। সভায় তিনি গত দুই বছরে বাহিনীর বিভিন্ন সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন।

মহাপরিচালক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে আনসার-ভিডিপিকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মহাপরিচালক জানান, আনসার-ভিডিপির প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের তথ্য এখন সুনির্দিষ্টভাবে ডাটাবেজভুক্ত করা হয়েছে। গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও প্লাটুন পর্যায়ের সদস্যদের তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাহিনীর ডিজিটাল রূপান্তরও দৃশ্যমান হচ্ছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে সদস্য মোতায়েন, সদস্যদের তথ্য সংরক্ষণ, বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। আনসার-ভিডিপি জব পোর্টালের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে ৬০ লাখ সদস্যকে নিয়ে বিদ্যমান এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসমৃদ্ধ লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে সদস্যদের রক্তের প্রয়োজনীয় তথ্যসহ বড় পরিসরের একটি ব্লাড ব্যাংক সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সাড়ে চার লাখের বেশি তরুণকে প্রশিক্ষণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাড়ে চার লাখের বেশি নতুন তরুণ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক। তাঁর ভাষ্য, এই প্রশিক্ষণ শুধু নির্বাচন বা উৎসবকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালনের জন্য নয়; যুদ্ধকালীন বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতেও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী জনবলকে কাজে লাগানো যাবে।

গত দুই বছরে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য, ধরন ও পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে সতেজকরণ প্রশিক্ষণও জোরদার করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ ও কেপিআই (কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন) স্থাপনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অঙ্গীভূত আনসারদের ‘রেস্ট’ প্রথা বাতিলের উদ্যোগ

অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দীর্ঘদিনের ‘রেস্ট’ প্রথা বাতিলের প্রয়োজনীয় সংস্কার, ব্যবস্থাপনা ও জনবল সমন্বয়ের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানান মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের বেতন, রেশন ও অন্যান্য প্রাপ্যতা যথাসময়ে নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চাকরি শেষে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি ফান্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

তৃণমূল উন্নয়নেও আনসার-ভিডিপির ভূমিকা

ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্যোগ ও যুদ্ধকালীন ভূমিকা পালনের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ভিডিপি ও টিডিপি সদস্যরা তৃণমূল পর্যায়ে আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। পরিবেশদূষণ প্রতিরোধ, বৃক্ষরোপণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, কৃষিকাজে সহায়তা, স্বেচ্ছাশ্রম ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে তাঁরা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন।

প্রান্তিক পর্যায়ের ভিডিপি ক্লাবগুলোকে ‘সঞ্জীবন’ কর্মসূচির আওতায় পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবি

সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বর্তমানে কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক ধাপ অতিক্রম করেই যোগ্য প্রার্থীরা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হচ্ছেন।

নিয়োগে অবৈধ আচরণ, দুর্নীতি বা দালালির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, এর ফলে দক্ষতা, জ্ঞান, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচিত হচ্ছেন।

বাহিনীর প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন, উপজেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা, সদর দপ্তরের কল্যাণ শাখাকে আরও কার্যকর করা এবং মাঠপর্যায়ে সদস্যদের কল্যাণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।

বাহিনীকে আরও জনবান্ধব, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সংস্কার ও রূপান্তরের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের সক্ষমতাকে দেশের নিরাপত্তা, জনকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হবে।

মতবিনিময় সভায় বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার-ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট (ভারপ্রাপ্ত) উপমহাপরিচালক মো. সাইফুল্লাহ রাসেলসহ বাহিনীর কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বেনাপোলে ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে মাদ্রাসাশিক্ষক নিহত
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন খবর
আত্রাইয়ে জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন, শামিয়ানার নিচেই চলছে পাঠদান
নেত্রকোনায় পিকআপ-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৪
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা