স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নয়, নিজের জুতাই বহন করছিলেন ওসি মোহাম্মদ আলী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, ভিডিওতে ওসি যে জুতা হাতে নিয়েছিলেন, সেটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নয়; তাঁর নিজের ব্যবহৃত জুতা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক খান মো. মাসকোয়াত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংক্ষিপ্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছেন ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী। এ সময় তাঁর হাতে এক জোড়া জুতা দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতা হাতে ওসি’—এমন শিরোনাম ও মন্তব্যে আলোচনা শুরু হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ভিডিওটির দৃশ্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতা বহন করেননি। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তিনি নিজের ব্যবহৃত সরকারি অক্সফোর্ড জুতা নিজ হাতেই বহন করছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, একজন পুলিশ কর্মকর্তা নামাজ শেষে নিজের জুতা নিজ হাতে নিয়ে বের হওয়া স্বাভাবিক ও ব্যক্তিগত আচরণ। কিন্তু একটি আংশিক ভিডিওর দৃশ্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সেটিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতা হিসেবে প্রচার করা বাস্তব ঘটনার সম্পূর্ণ বিপরীত।
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন আরও বলেছে, তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোনো পুলিশ সদস্য বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও প্রকৃত তথ্য যথাসম্ভব যাচাই করে উপস্থাপনের প্রত্যাশা রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আংশিক ভিডিও বা বিচ্ছিন্ন দৃশ্য থেকে তৈরি ভুল ব্যাখ্যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জনমনে অনভিপ্রেত ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রকৃত তথ্য ও পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইতিমধ্যে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্য বা শিরোনাম প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, পেশাদার সাংবাদিকতা ও দায়িত্বশীল পুলিশিং—উভয়ের লক্ষ্যই জনগণের স্বার্থে সত্য ও সঠিক তথ্য প্রতিষ্ঠা করা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে গণমাধ্যম ও পুলিশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
(ঢাকাটাইমস/১৩ আগস্ট/এসএস)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































