যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি বানচাল করতে 

ট্রাম্পকে হত্যার নাটক সাজায় ইসরায়েল: তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:০০
অ- অ+

জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইরান। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার এমন একটি প্রতিবেদন নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছে তুরস্ক। তুর্কি কর্মকর্তাদের ধারণা, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা বানচাল করতেই মূলত এই ‘ভুয়া’ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের (এমইই)।

গত ৮ জুলাই স্থানীয় দুপুর ২টার দিকে সাংবাদিকরা জানতে পারেন, তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনী আঙ্কারা বিমানবন্দরে হঠাৎ করেই অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করছে। সেখানে ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটি রাখা ছিল।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে আঙ্কারাজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ ও ফুটপাত বন্ধ রাখা হয়েছিল, সরকারি কর্মচারীদের দেয়া হয়েছিল এক সপ্তাহের প্রশাসনিক ছুটি। ফলে পুরো শহর একপ্রকার জনশূন্য হয়ে পড়েছিল।

তুরস্কের সরকার ‘এতিমেসগুত বিমান ঘাঁটিকে’ বিশ্বনেতাদের সফরের উপযোগী করে রূপান্তর করেছিল। যাতে রাষ্ট্রপ্রধানরা মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে সম্মেলনস্থলে পৌঁছাতে পারেন। এমন কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের তুর্কি সহকর্মীদের জানান, ইসরায়েল থেকে তারা একটি গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে ইরান।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র এমইই-কে জানিয়েছে, ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের একটি গোপন দল আঙ্কারা বিমানবন্দরের কাছে ট্রাম্পের ব্র্যান্ড-নিউ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানটিকে নিশানা করতে পারে।

সূত্রগুলোর একটি জানায়, ‘ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানায়, বিমানবন্দর থেকে এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কাঁধে রেখে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাডস) ব্যবহার করে ইরানিরা ওই বিমানে হামলা চালাতে পারে।’

এতিমেসগুত বিমান ঘাঁটির চারপাশে রয়েছে বেসামরিক ভবন, যার কয়েকটি রানওয়ে থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে। শহরের এত কাছে হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তুর্কি কর্মকর্তারা অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন।

ঘটনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা যোগ করেন, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে চেয়েছিল। তারা প্রথমেই ট্রাম্পের বিমান ছাড়ার স্থান আঙ্কারা বিমানবন্দর থেকে বদলে এসেনবোগা বিমানবন্দরে নিয়ে যায়, কারণ সেখানে বেসামরিক ভবনগুলো অনেক দূরে। এরপর তারা নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের বদলে ট্রাম্পের পুরোনো বিমানটি ফিরিয়ে আনে, কারণ পুরোনো বিমানটিতে এমন কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা নতুনটিতে ছিল না।

সে সময় অনেক মার্কিন কর্মকর্তার কাছেই ইরানের ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার হুমকিটি বাস্তবসম্মত মনে হয়েছিল। কারণ ইতোপূর্বে ইরান অন্তত দুইবার এমন চেষ্টা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তুর্কি কর্মকর্তারা এখন মনে করছেন, ইসরায়েলের ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি সম্ভবত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের একটি ‘চাল’ ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, একদিকে ট্রাম্পকে রক্ষা করার ভান করা, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ভণ্ডুল করা। পাশাপাশি এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠছিল, তাতে ফাটল ধরানো।

ঘটনার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি এমইই-কে বলেন, ‘আমরা (ইসরায়েলের গোয়েন্দা) প্রতিবেদনটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছিলাম এবং আমাদের মার্কিন সহকর্মীদের যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। তবে আমাদের কাছে এটা একদম পরিষ্কার ছিল, এই প্রতিবেদনটি কোনোভাবেই সত্য হতে পারে না।’

যদিও ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অতীতে তুরস্কে তাদের বিরোধীদের অপহরণ বা হত্যা করেছে। তবে তেহরান কখনোই সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্রের বাইরে গিয়ে সেখানে এত জটিল ও বড় ধরনের কোনো অভিযান চালানোর সাহস দেখায়নি।

এ ধরনের হামলা চালাতে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট, নিরাপদ আশ্রয়স্থল, আঙ্কারায় ঢোকা ও বের হওয়ার গোপন পথ এবং সামিটের আগের কঠোর নিরাপত্তার চেকপোস্টগুলো পার করে ‘ম্যানপ্যাডস’ পরিবহন করার মতো বিশাল নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হতো।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আগামি বছরের মধ্যে বসিলা ও রায়েরবাজারে আলাদা থানা চালু করা হবে: ববি হাজ্জাজ
গভীর রাতে পত্রিকা অফিসে হামলা সাধারণ কোন ঘটনা নয়, স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর চরম আঘাত
গেন্ডারিয়ায় মিষ্টির কারখানায় অভিযান, বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
পদোন্নতি-পদায়ন জটিলতা নিরসনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসবে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা