মির্জাপুরে গৃহবধূ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ গোলাপী বেগম (৪০) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্বামী আব্দুল কাদের মিয়া। এছাড়া শ্বশুর কর্তৃক দায়ের করা একের পর এক মিথ্যা মামলার হাত থেকে মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার সন্ধায় মির্জাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল কাদের এই দাবি জানান।
তিনি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে মির্জাপুর পৌর এলাকার বাওয়ার কুমারজানি রোডস্থ বাসিন্দা বিশু মিয়ার মেয়ে গোলাপী বেগমের সাথে তার বিয়ে হয়। প্রবাস জীবন ও ব্যবসা করে অর্জিত প্রায় ২২ লক্ষ টাকা, ৩০ ভরি স্বর্ণ ও ৮০ ভরি রূপার গহণা আত্মসাৎ করার অসৎ উদ্দেশ্যে তার শ্বশুর বিশু মিয়া, শাশুড়ি সমলা বেগম ও সহযোগীরা তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় চাপ দিতে থাকে। এছাড়া আমার স্ত্রী গোলাপীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সন্ধায় কে বা কারা মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে স্ত্রী গোলাপীকে বাসা থেকে ডেকে নেয়। এরপর আর সে বাসায় ফিরে না। না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুৃজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ২৬ অক্টোবর মির্জাপুর থানার সামনে দিয়ে প্রবাহিত বারোখালি খাল থেকে বিদ্যুতের তার দিয়ে হাত-পা বাঁধা ও গলায় ওড়না প্যাঁচানো গোলাপীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্বশুর বিশু মিয়া প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলায় তাকে স্ত্রী হত্যায় গ্রেপ্তার করিয়ে জেলহাজতে পাঠায়। প্রায় সাড়ে ছয় মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন। বাসায় ফিরে দেখেন, তার ঘর থেকে নগদ ২২ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও রুপার গহনা জরুরি কাগজপত্র চুরি করে নেয় শ্বশুর বিষু মিয়া।
অন্যদিকে শ্বশুর বিষু মিয়া বিভিন্ন ব্যক্তির নামে জালিয়াতির মাধ্যমে চেক ডিজঅনারের মিথ্যা মামলা করেছেন। এছাড়া আব্দুল কাদের মিয়া তার শ্বশুরের বিরুদ্ধে টাকা, গহণা ও কাগজপত্র উদ্ধারে আদালতে মামলা করেছেন। ওই মামলায় যাদের স্বাক্ষী করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক হয়রানিমূলক সি.আর মামলা দায়ের করেছেন বিষু মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল কাদের মিয়া তার স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক প্রকৃত খুনিদের চিহিৃতপূর্বক গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এসময় বিষু মিয়ার অন্য মামলার আসামি সখিনা বেগম উপস্থিত ছিলেন। মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রকৃত আসামিদের চিহিৃত করতে পুলিশ কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
(ঢাকা টাইমস/১২আগস্ট/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































