শেখ হাসিনা কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানে না বাংলাদেশ, আইনি লড়াইয়ে ফেরানো হবে: চিফ প্রসিকিউটর

ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে বা কী প্রক্রিয়ায় সেখানে আছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা বিচার প্রক্রিয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে নিয়ে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে—এমন প্রতিবেদন প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কি না বা ঠিক কী স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই শুধু ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানে না শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন। ফলে ভারতীয় আদালতের অনুমতির বিষয়টি কী অর্থে বলা হয়েছে, সেটিও বাংলাদেশের কাছে পরিষ্কার নয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আইনি প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। ভারতের কাছে করা প্রত্যর্পণ আবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় সাংবাদিকরা ভারতের মেঘালয়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি জানান, ২০১৫ সালে সালাহউদ্দিন আহমেদকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের শিলংয়ে তাকে পাওয়া যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি খালাস পান এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
এদিকে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে তাদের ভূমিকার কারণে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব অপরাধের দায় আসামিদের নিতে হবে এবং ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
(ঢাকাটাইমস/১৭ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন









































