রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ১৬ দিন পর মারা গেলেন অসুস্থ সেই প্রবাসী জামাল উদ্দিন

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
জামাল উদ্দিন সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১ আগস্ট রাতে একটি গাড়িতে করে তাঁকে সখীপুরের কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরদিন স্থানীয়রা তাঁকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন।
জামাল উদ্দিনের ভাতিজিজামাই শাহ আলম জানান, রাস্তা থেকে উদ্ধারের পর জামাল উদ্দিন তাঁর বাড়িতেই ছিলেন। স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় তাঁর চিকিৎসার কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে কিডনিজনিত জটিলতায় আক্রান্ত জামাল উদ্দিনের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন ছিল।
তিনি বলেন, সোমবার দুপুরে জামাল উদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে পৈতৃক ভিটাসহ সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন জামাল উদ্দিন। পরে প্রায় ১০ বছর সৌদি আরবে ছিলেন তিনি।
প্রবাসজীবনে উপার্জিত অর্থের বেশিরভাগই স্ত্রী-সন্তানদের কাছে পাঠাতেন বলে স্থানীয়রা জানান। প্রায় চার মাস আগে দেশে ফেরার পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়াছাড়ি হয়। পরে ছেলে আবু রায়হানের সঙ্গে গাজীপুরে বসবাস করতে থাকেন জামাল উদ্দিন।
সেখানে তাঁর কিডনির জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার পরিবর্তে তাঁকে একটি গাড়িতে করে সখীপুরে পৈতৃক বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১ আগস্ট রাতে কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক বাড়ির সামনে অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে ফেলে রেখে গাড়িচালক চলে যান। পরদিন সকালে স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এর ১৬ দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন জামাল উদ্দিন।
(ঢাকাটাইমস/১৮ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































