৩৬ বছর বয়সে মারা গেলেন অভিনেত্রী হেইডেন

জনপ্রিয় মার্কিন টিভি সিরিজ ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-এর অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ের মারা গেছেন। রবিবার (১৬ আগস্ট) ৩৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। অভিনেত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
হেইডেনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। তার বাবা স্কিপ প্যানেটিয়ের এক বিবৃতিতে মেয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের এই কঠিন সময়ে সবার কাছে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত সময় চেয়েছেন তিনি।
হেইডেন প্যানেটিয়ের অল্প বয়সেই অভিনয় শুরু করেন। মাত্র ১১ মাস বয়সে একটি বিজ্ঞাপনে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি। পরে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান।
‘হিরোস’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ‘হিরোস’ সিরিজে ক্লেয়ার বেনেট চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান হেইডেন। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রচারিত এই সিরিজে তার অভিনয় দর্শকদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে।
এরপর ‘ন্যাশভিল’ সিরিজে কান্ট্রি সংগীতশিল্পী জুলিয়েট বার্নস চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি। এই চরিত্রের জন্য দুইবার গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়নও পেয়েছিলেন। সিরিজটির জন্য কয়েকটি গানও রেকর্ড করেন হেইডেন।
চলচ্চিত্রেও তার উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে। ‘রিমেম্বার দ্য টাইটানস’, ‘স্ক্রিম ৪’ ও ‘স্ক্রিম ৬’-এ অভিনয় করেছেন তিনি। ‘স্ক্রিম’ সিরিজে কিরবি রিড চরিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও পরিচিতি পান।
ব্যক্তিজীবনে নানা লড়াই
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের নানা সংকট নিয়েও খোলামেলা ছিলেন হেইডেন। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, অ্যালকোহল ও মাদকাসক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন তিনি। ২০১৫ সালে ‘ন্যাশভিল’-এর শুটিং চলাকালে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন।
২০২২ সালের এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের কঠিন সময়গুলোর কথা বলেছিলেন হেইডেন। অতীতের অভিজ্ঞতাগুলোকে তিনি জীবনে নতুন সুযোগ হিসেবে দেখার কথাও জানিয়েছিলেন।
চলতি বছর প্রকাশিত তার স্মৃতিকথা ‘দিস ইজ মি: অ্যা রেকনিং’-এ খ্যাতি, মাতৃত্ব-পরবর্তী বিষণ্নতা, আসক্তি ও পুনরুদ্ধারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন তিনি।
কন্যা কায়াকে রেখে গেলেন
২০১৪ সালে ইউক্রেনের সাবেক হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন ভ্লাদিমির ক্লিচকোর সঙ্গে হেইডেনের কন্যা কায়ার জন্ম হয়। পরে ২০১৮ সালে মেয়ের পূর্ণ হেফাজত ভ্লাদিমির ক্লিচকোর কাছে দেওয়া হয়।
হেইডেনের আকস্মিক মৃত্যুতে হলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতির কথা জানায়নি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































