লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিসহ ১০ জনের মৃত্যু, উদ্ধার ২৯

লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়া একটি রাবারের নৌকা থেকে ২৯ বাংলাদেশিসহ ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূল থেকে উদ্ধারের পর তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৯ বাংলাদেশি ও একজন সুদানি নাগরিকসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) কায়রোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রাথমিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
দূতাবাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মানব পাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৩ আগস্ট ৩৮ বাংলাদেশি ও চার সুদানি নাগরিকসহ মোট ৪২ জন তবরুক থেকে রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। স্পিডবোটের ইঞ্জিনচালিত নৌকাটিতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না।
যাত্রীদের বলা হয়েছিল, গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় একপর্যায়ে নৌকাটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। পরে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটি সাগরে ভাসতে থাকে।
প্রায় ১০ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় পুলিশ যাত্রীদের উদ্ধার করে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন ছিলেন। তাঁদের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আবদুল করিমের সঙ্গে কথা বলে নৌযাত্রার বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তীব্র গরম, প্রচণ্ড রোদ, খাদ্য ও পানির সংকটে ৯ বাংলাদেশি ও একজন সুদানি নাগরিকের মৃত্যু হয়।
দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকায় মৃতদেহগুলোতে পচন ধরেছিল। একপর্যায়ে জীবিত যাত্রীরা বাধ্য হয়ে সেগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দেন।
ঘটনার পর থেকে মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের আইন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে একই নৌকায় থাকা সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার অন্তত সাত যুবক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁরা হলেন—পাগলা শত্রুমর্দন গ্রামের হৃদয় পাল, চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খান, রিপন মিয়া ও মামুন খান, রনসী গ্রামের মোহাম্মদ তালহা ও ছাব্বির এবং ডুংরিয়া গ্রামের সোহেল।
তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার খবরে পরিবারগুলোতে শোকের মাতম চলছে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার সাত যুবক নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে।
(ঢাকাটাইমস/১৮ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































