দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার উপরে, পানিবন্দি ২০ গ্রাম

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোর পানি আবারও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নাগেশ্বরী উপজেলার মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে চার উপজেলায় ২০৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সোমবার (২৯ জুন) জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, দুধকুমার নদের পানি ৮৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে সন্ধ্যা ৬টার আপডেটে জানানো হয়, পাটেশ্বরী পয়েন্টে নদটির পানি আরও বেড়ে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি সামান্য কমে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীর শিমুলবাড়ী ও সেতু পয়েন্ট এবং ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া, হাতিয়া ও চিলমারী পয়েন্টেও পানি বেড়েছে, তবে এখনো তা বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
দুধকুমার নদের মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে মিয়াপাড়া, মালিয়ানি, সেনপাড়া, তেলিয়ানীপাড়া, পাটেশ্বরী, বোয়ালের ডারা, ধনিটারী ও বড়মানী গ্রাম ছাড়াও নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাঞ্জুয়ারভিটা ও ফকিরটারী এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান জানান, মুড়িয়ারহাট ও মিয়াপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে ঢুকেছে। এতে ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন।
নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সদ্য রোপণ করা আমনের বীজতলা, পাট, পটল, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার চারটি উপজেলায় মোট ২০৪ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
সদর উপজেলার পাঁচগাছী এলাকার কৃষক খলিল মিয়া বলেন, বাড়ির পাশ পর্যন্ত পানি চলে এসেছে। গ্রামীণ সড়কে পানি ওঠায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আমার পটলক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে ফসল রক্ষা করা কঠিন হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুধকুমার নদের পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি নিচু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সেখান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































